রাজ্যে পুরসভা ভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে

নভেম্বরেই প্রথম দফায় ৭ পুরসভায় ভোটের ইঙ্গিত। ৬৩০০ বুথে প্রয়োজন ৩৭ হাজারের বেশি ভোটকর্মী।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা : নভেম্বরে ভোটের সম্ভাবনা, ৬৩০০ বুথে প্রয়োজন ৩৭ হাজারের বেশি ভোটকর্মী, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে EVM-এর FLC। আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করে দিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আজ জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট জেলা মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকে পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়।

কমিশনের বৈঠকের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তা জানান, প্রথম দফায় কলকাতা, হাওড়া, বালি, কালিম্পং, কার্শিয়াং, ধূপগুড়ি এবং হলদিয়া—এই ৭টি পুরসভায় ভোট হতে পারে। নভেম্বর মাসে পুরসভা নির্বাচন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়াও, সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য রাজ্য পুলিশের সাহায্য নেওয়া হবে বলেই জানা যাচ্ছে কমিশন সূত্রে।

পুরসভাগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের কাজ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণের Form B ৭ অক্টোবর এবং অন্যান্য পুরসভার ক্ষেত্রে ৬ অক্টোবর প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত আইন এবং রোটেশনাল রোস্টার মেনেই সংরক্ষণের প্রক্রিয়া চলছে।

২৯ সেপ্টেম্বর থেকে EVM-এর FLC

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে পাওয়া EVM সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে বরাদ্দ করা হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত EVM-এর First Level Checking বা FLC করার পরিকল্পনা রয়েছে। EVM-এর মুভমেন্ট, FLC এবং ব্যবস্থাপনার কাজে EMMS অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে।

ভোটার তালিকা নিয়েও প্রস্তুতি

১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত আপডেট হওয়া ভোটার তালিকা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবরে দ্বিতীয় সপ্তাহে খসড়া ভোটার তালিকা এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের তালিকা তৈরির কাজও চলবে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা Assured Minimum Facilities (AMF) রয়েছে কি না, তা পরিদর্শন করতে জেলা প্রশাসন এবং MRO-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৬৩০০ বুথে প্রয়োজন ৩৭ হাজারের বেশি ভোটকর্মী

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬৩০০টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটকর্মী প্রয়োজন হবে। প্রতি বুথে ১+৩ অনুপাতে ভোটকর্মী মোতায়েন করা হবে। পর্যাপ্ত রিজার্ভ কর্মীও রাখা হবে। ভোটকর্মীদের তথ্য যাচাই ও ব্যবস্থাপনার জন্য EMMS পোর্টাল ব্যবহার করা হবে। ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

আইনশৃঙ্খলা ও স্পর্শকাতর বুথে নজর

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সেক্টর অ্যারেঞ্জমেন্ট সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্টর অফিসারদের নিজেদের অধীনস্থ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি vulnerability mapping এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী খরচ ও MCC নিয়েও নির্দেশ

আগের পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের জমা দেওয়া নির্বাচনী খরচের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে কমিশন। নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সেই তথ্য জমা দিতে হবে।

কমিশনের প্রেস রিলিজ প্রকাশের দিন থেকেই Model Code of Conduct বা MCC কার্যকর হবে বলে প্রেস নোটে জানানো হয়েছে। তবে যে পুরসভা এলাকাগুলিতে ভোট হবে, শুধুমাত্র সেই এলাকাতেই MCC প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ, সম্ভাব্য পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে গতি বাড়িয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা, EVM, ভোটকর্মী, বুথ পরিকাঠামো থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।