আচমকা অবস্থান বদল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সন্ত্রাস বা জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল ট্রাম্পের কন্ঠে।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ এতদিন বারবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে নিজেই কৃতিত্ব নিয়েছেন, টিআরএফকে জঙ্গি সংগঠনের তকমা দিয়েছেন তবে এবার সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রভূত প্রশংসা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে পাকিস্তান। আর নিরন্তর এই লড়াইয়ে এসেছে সাফল্যও! শুধু পাকিস্তানে নয়, বিশ্বে সন্ত্রাসী সত্তা দমনে পাকিস্তানের সাফল্যেরও ভূয়সী প্রশংসা করল ট্রাম্প প্রশাসন।

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় প্রাণহানির জন্য সমবেদনাও জানিয়েছে আমেরিকা। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং পাকিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী ঘটনায় সাধারণ মানুষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের হতাহতের জন্য আমেরিকা সমবেদনা প্রকাশ করেছে।’’ এই বিষয়ে বলতে গিয়ে বিবৃতিতে জাফর এক্সপ্রেসে হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, খুজদারে একটি স্কুলে বোমা হামলার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে যে কোন ভাবে ট্রাম্প যেন পাকিস্তানের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাই একদিকে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের প্রশংসা এবং অন্যদিকে বালোচ লিবারেশন আর্মির গায়ে বিদেশি জঙ্গির তকমা সেঁটে দিয়েছে ট্রাম্প সরকার। কার্যত পাকিস্তানের ইচ্ছা পূরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে বিদেশি জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করেছে। এর সহযোগী সংগঠন ‘দ্য মাজিদ ব্রিগেড’কেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে এর মাধ্যমে ট্রাম্প আসলে কী চাইছেন? ভারতের উদ্দেশ্যে কোনও বার্তা, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে নিজের পক্ষে রাখতে চাইছেন।
অন্যদিকে উল্লেখ্য, বাণিজ্যচুক্তি এবং শুল্ক নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার চাপানউতর অব্যাহত। সম্প্রতি খনিজ তেল নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তি হয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। সেই সূত্রে পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে।