মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “যুগাবতার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথির মতো বিশেষ দিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘স্বামী’ উপসর্গ ব্যবহার করা অপ্রচলিত ও অনুপযুক্ত।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১ তম জন্মতিথি উপলক্ষে সকাল থেকেই ভক্ত সমাগম কামারপুকুরে। ভোর চারটে ত্রিশ মিনিটে শ্রীরামকৃষ্ণের মঙ্গলআরতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। পূণ্যভূমি কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের মাটির বসতবাটিতে ও চলে পূজার্চনা। সকাল থেকেই দেশ-বিদেশের ভক্তরা কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথির সুসজ্জিত শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
এই আবহে বিতর্কে জড়াল প্রধানমন্ত্রীর একটি এক্স পোস্ট। ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নামের আগে ‘স্বামী’ উপসর্গ ব্যবহার করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-কে কড়া আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের এক্সহ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজি’র জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তিনি যেভাবে আধ্যাত্মিকতা ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনকে জীবনীশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা প্রতিটি যুগে মানবতার কল্যাণে অব্যাহত থাকবে। তাঁর সৎ চিন্তাভাবনা ও বার্তা সর্বদা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।” প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই জোর কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর ।
মোদীর পোস্টটি রি-শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “আবারও হতবাক! আমাদের প্রধানমন্ত্রী আবারও বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি তাঁর সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, যুগাবতার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথির মতো বিশেষ দিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘স্বামী’ উপসর্গ ব্যবহার করা অপ্রচলিত ও অনুপযুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর লিখেছেন, বাঙালি ঐতিহ্যে শ্রী রামকৃষ্ণকে সর্বদা ‘ঠাকুর’ হিসেবেই সম্বোধন করা হয়। তিনি লেখেন, “ঠাকুর হলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, মা হলেন মা সারদা এবং স্বামীজি হলেন স্বামী বিবেকানন্দ।” তাঁর বক্তব্য, Ramakrishna Paramahamsa নিজে কখনও ‘স্বামী’ উপাধি ব্যবহার করেননি। পরবর্তীকালে তাঁর শিষ্যরা Ramakrishna Math ও Ramakrishna Mission প্রতিষ্ঠা করেন এবং সন্ন্যাসপ্রথা অনুযায়ী ‘স্বামী’ উপাধি গ্রহণ করেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ নিজে সর্বদা ‘ঠাকুর’ হিসেবেই সম্মানিত।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, “এঁরা আধুনিক ভারতের রূপকার। তাঁদের ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষায় সতর্ক থাকা উচিত।” একই সুরে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও প্রধানমন্ত্রীর পোস্টটি শেয়ার করে কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, “‘স্বামী রামকৃষ্ণ’ নয়, তিনি ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। অনুগ্রহ করে পোস্টটি সংশোধন করুন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচিতির প্রশ্নে বাংলার সংবেদনশীলতা বরাবরই তীব্র। বিশেষ করে রামকৃষ্ণ-সারদা-বিবেকানন্দ ত্রয়ী বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীরে প্রোথিত। তাই নামের উপসর্গ নিয়েও দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্ক। এর আগেও ‘বঙ্কিম দা’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে জড়াতে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে—এমন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন শাসকদলের নেতারা।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা কটাক্ষ, “স্বামীজি বলে প্রধানমন্ত্রী রামকৃষ্ণকে সম্মান জানিয়েছেন। স্বামীজি না বলে কি তৃণমূলের মতো হোদল কুত কুত বলবে ?”
তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে জাতীয় নেতৃত্বের শব্দচয়ন কতটা সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? আর সেই বিতর্কই আপাতত রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দুতে।