সংসদের মকর দ্বারে প্রিয়াঙ্কা-কল্যাণের কথোপকথন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সংসদ চত্বরে বিরোধী জোটের বিক্ষোভের আবহেই নতুন জল্পনা। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথোপকথন ঘিরে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। সংসদের মকর দ্বারের সামনে চলা বিক্ষোভের ফাঁকেই দুই নেতার আলোচনায় উঠে এল কংগ্রেস ও তৃণমূলের অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেস ছাড়ার প্রসঙ্গ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তৃণমূলের সাংসদদের ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এ যোগদানের প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর কাছে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘‘ওঁদের তো কংগ্রেস থেকেই তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’’ উত্তরে কল্যাণের মন্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস থেকেই বের করে দেওয়া হয়েছিল।’’ এর জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘‘রাজীব গান্ধী সব সময়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎসাহ দিয়েছিলেন।’’ কল্যাণও সেই মন্তব্যে সম্মতি জানান। সংক্ষিপ্ত হলেও এই কথোপকথন সংসদ চত্বরে উপস্থিত রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অন্য দিকে, বিরোধী দলগুলির আন্দোলনের মূল ইস্যু ছিল দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের কথিত বলপ্রয়োগ। কংগ্রেস-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা মকর দ্বারের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের প্রশ্ন, ২০ জুলাই যন্তরমন্তরে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল? পাশাপাশি অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ ব্যবহারে কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কেন্দ্রের জবাবদিহি দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভ চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এ দিন সংসদে উপস্থিত থাকা উচিত। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘‘হ্যাঁ, ওনার অবশ্যই আসা উচিত।’’ বিরোধীদের দাবি, দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন হওয়ায় ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরই ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের এই আবহেই এ দিন রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য তোলা হচ্ছে পাবলিক এগ্জামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬। প্রশ্নফাঁস ও অন্যান্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম রুখতে কঠোর শাস্তি, বিশেষ তদন্তকারী টাস্ক ফোর্স এবং দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব রয়েছে ওই বিলে। ফলে ছাত্র আন্দোলন, সংসদের অচলাবস্থা এবং বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ— সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার সংসদের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত।