ভোটার তালিকায় ফের নাম তোলার প্রক্রিয়া শুরু, অনলাইন আবেদনের নিয়ম জানুন

এসআইআর বিতর্কের মাঝেই ডিলিট ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার কাজ শুরু হয়ে গেছে। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট ভোটার বলে যাদের নাম বাদ পড়েছিল, তাদের নাম তোলার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনেও আবেদন করে নাম তুলতে পারবেন ভোটাররা। জানেন কী কী ভাবে করতে হবে আবেদন। কোথায় গিয়ে আবেদন করবেন। কী কী ডকুমেন্টস দিতে হবে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

কে আসল ভোটার কে যে নকল ভোটার বুঝতে খুড়োর কল হিসাবে সামনে এল এসআইআর। সেই খুঁড়োর কলে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে খেতে হয় নাকানি চোবানি। যার রেশ এখনও চলছে। যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম উঠল তাঁরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। আর যাদের সেইসময় নাম বাদ যায় তাঁরে চেঁচিয়ে গলা ফাটিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেও কাউকে বোঝাতে পারেননি তাঁরা বৈধ ভোটার তবুও নাম বাদ গেছে। বিতর্কে পড়তে কমিশনের এখন টনক নড়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট সামনে আসার পরে ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। সব যে নিময় মেনে, ঠিকঠাক হয়নি তাই কার্যত ফাঁস হয়ে গেছে। এরপরই নয়া নির্দেশিকা জারি করে বাদ যাওয়া নাম তুলতে তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই নাম বাদ গিয়ে বা ডিলিট হয়ে থাকলে একটি নির্দিষ্ট লিংকে ক্লিক করে নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ceowestbengal.gov.in/sir- এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করা যাবে। জেলার ইলেকটোরাল অফিসারদের ওয়েবসাইটেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিএলও-র মাধ্যমে ফর্ম ৬ সাবমিট করতে হবে। প্রথমবার ভোটারতালিকার নাম তোলার আবেদনপত্রও নেওয়া হবে। অর্থাৎ যাঁদের বয়স ১৮ বছর হয়েছে তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে নাম আটকে থাকলে, তার কোনও সমাধান সূত্র এখনও বের হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তারা ফর্ম ৬ ফিল আপের সুযোগ পাবেন।

এবার আসি কীভাবে হচ্ছে এই প্রক্রিয়া। বিএলও দের আগে এসআইআরের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান চূড়ান্ত ভোটার তালিকার তুলনা করতে হবে। দুটি তালিকার মধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে। চিহ্নিত ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেবেন বিএলওরা। প্রতিটি বিএলওকে সপ্তাহে অন্তত ২০-২৫ জন ভোটারের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় না থাকলে বা এসআইআরে নাম বাদ পড়ে থাকলে, নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ফর্ম সিক্স পূরণে সাহায্য করবেন বিএলওরা। একইসঙ্গে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের সময় নতুন এবং তরুণ ভোটারদেরও চিহ্নিত করতে হবে। তাঁদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম সিক্স পূরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন বিএলওরা। চিহ্নিত ভোটারদের তালিকা স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্ট অর্থাৎ বিএলওদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। প্রক্রিয়া শেষে বুথভিত্তিক তালিকাও রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের দেওয়া হবে, যাতে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যায়। ফর্ম সিক্স ভোটারদের বর্তমান অবস্থার বিবরণ এবং অন-গ্রাউন্ড যাচাইয়ের রিপোর্ট ইআরওর কাছে জমা দিতে হবে।

কী কী ডকুমেন্টস লাগতে পারে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে-

কী কী বাড়িতে রাখবেন?
১)ফিল আপ করা এনুমারেশন ফর্ম রাখতে হবে
২)হিয়ারিংয়ের যে নোটিসটা দেওয়া হয়েছিল সেটা রাখতে হবে
৩)যে কারণে আপনার নাম ডিলিট হয়েছিল সেই ডকুমেন্টস রাখবেন
৪)২০০২ সালে ভোটার তালিকা অনুসারে আপনি যাকে দিয়ে লিংক করবেন তাঁর ডকুমেন্টস
৫)SIR চলাকালীন Form 6-এর ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত বিভাগ জোড়া হয়েছিল

আবেদনকারীকে তাঁর বাবা-মা বা দাদু-দিদার নাম আগের SIR-এর ভোটার তালিকায় ছিল কি না তা ‘ডিক্লেয়ারেশন’ দিতে হত এই অতিরিক্ত নিয়মকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও প্রশ্ন ওঠে কমিশনের নয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, SIR শেষ হয়ে যাওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেই অতিরিক্ত ঘোষণার প্রয়োজন হবে না। এখন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য Registration of Electors Rules, 1960 অনুযায়ী নির্ধারিত সাধারণ Form 6 ব্যবহার করলেই হবে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার এই সুযোগ কতটা মিলবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। কারণ এরাজ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের আবেদন ট্রাইব্যুনালেই আটকে আছে। সংখ্যাটা প্রায় ৩০ লক্ষ। তাঁদের ভাগ্য এখনও ঝুলে রয়েছে।