‘চটিচাটা প্রসেনজিৎ’

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিক সহ বাংলার পাহাড় ভাসছে। ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন পাহাড়ের বাসিন্দারা। ভেঙে পড়ছে ব্রিজ, ভেসে গিয়েছে হোমস্টেড, বন্ধ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরকম পরিস্থিতির মধ্যেও কার্নিভাল কেন বাতিল করে দেওয়া হল না, তা নিয়ে রবিবার থেকেই রাজ্য সরকারকে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। এবার সেই রোষ গিয়ে পড়ল টলিপাড়ার অভিনেতা প্রসেনজিতের ওপরও। সোমবার একটু রাতের দিকে প্রসেনজিৎ লেখেন, কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার এই মুহূর্তে সারা দেশ এবং সমগ্র দেশের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা পাক এই আশা রাখি। মানুষ ও প্রকৃতি সামঞ্জস্য হারালে সচেতনতা এবং সদুদ্যোগ একমাত্র উপায় ঘুরে দাঁড়ানোর। আর ব্যস, একের পর এক কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। কেউ বলেন নাচানাচি শেষে হুঁশ ফিরল দাদা? কেউ বলেন এইটুকু না করলে ইন্ডাস্ট্রি তকমা বজায় থাকবে না, কেউ তো বলেই দিলেন চটিচাটা, কেউ আবার বাংলাতে পোস্ট করা নিয়েও বলেন আসুন একটু দেখি কে কি বললেন?

রবিবার, কলকাতায় ছিল দুর্গাপুজোর কার্নিভাল। কলকাতার প্রায় সমস্ত দুর্গা প্রতিমা এইদিন অনুষ্ঠান করে বিসর্জনে নিয়ে যাওয়ার উৎসব চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রত্যেকবছর কার্নিভালে উপস্থিত থাকেন। পাশাপাশি উপস্থিত থাকেন অন্যান্য নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে টলিউডের একগুচ্ছ অভিনেতা অভিনেত্রীরাও। রবিবারের কার্নিভালে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

আর সেই কারণেই অনেকেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই পোস্টে চটেছেন। অনেকেই মনে করছেন, ২৪ ঘণ্টা আগেই যিনি কার্নিভালে অংশ নিতে পেরেছিলেন, ১ দিনের মধ্যে হঠাৎ এমন কী হল যে পাহাড়ের জন্য তাঁর প্রাণ কাঁদছে? অনেকে আবার লিখেছেন, ‘জনগণের বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখেই এই বিলম্বিত পোস্ট।’ তবে এই সমস্ত কটাক্ষের কোনও জবাব দেননি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি কেবল পাহাড়ের মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।

মাসখানেক আগেও ট্রোলের নিশানা হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। মুম্বইয়ে এক প্রেস মিট চলাকালীন তাঁকে বাংলার এক সাংবাদিক বাংলায় প্রশ্ন করলে, প্রসেনজিৎ বলে বসেন, ‘বাংলা বলার কী দরকার পড়ল’! তারপর রে রে করে তেড়ে আসেন মানুষ এভাবেই। এমনকী, নিঃশর্তভাবে ক্ষমাও চেয়েছিলেন পরবর্তীতে তিনি ট্রোলের মুখে পড়ে।