বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে হাওড়া ফেরিঘাটে বিক্ষোভ, বন্ধ লঞ্চ পরিষেবা। বকেয়া দু’মাসের বেতন ও বোনাসের দাবিতে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমিতির কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হাওড়া ফেরিঘাট। পুজোর আগে প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন কর্মীরা। অভিযোগ, কর্মীদের বকেয়া বেতন ও বোনাস না মেটানো হলে ফেরি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পুজোর সময় লঞ্চ না চালানোরও হুমকি দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা
সেই হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, আজ শুভ চতুর্থীর দিন দুপুর ২টো নাগাদ বন্ধ করে দেওয়া হয় লঞ্চ পরিষেবা। এর জেরে ফেরিঘাটে যাত্রীদের যাতায়াতে সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুজোর মুখে লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভোগান্তির মুখে পড়েছে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।এখন দেখার, কর্মীদের বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবি মেটাতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে এবং কবে ফের স্বাভাবিক হয় লঞ্চ পরিষেবা। পুজোর সময় হাওড়ায় হুগলি নদীঘাটগুলিতে ভিড় অনেক বেশি থাকে। নিত্যযাত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর মানুষ পুজোয় ঠাকুর দেখতে বার হন। অনেকের কাছেই ভরসা এই ফেরি পরিষেবা। কিন্তু বুধবার দুপুর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে গেলেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। ফলে পুজোর সময় কলকাতা এবং হাওড়া মধ্যে ফেরি চলাচল ব্যাহত হল।মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়া রেলস্টেশন লাগোয়া ফেরিঘাটে বিক্ষোভ দেখান হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত দু’মাসের বেতন এবং বোনাস বকেয়া রয়েছে। পুজোর মুখে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন।
পুজোর মরসুমে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ফেরি পরিষেবা। প্রতিদিনের নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি পুজোর সময়ে প্রতিমা দর্শনে বেরোনো অসংখ্য মানুষের যাতায়াতের জন্যও এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কর্মীদের বেতন ও বোনাস বকেয়া থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় সেই পরিষেবাই কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন ফেরিঘাটে বিক্ষোভে শামিল হন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে বেতন মেলেনি। বকেয়া রয়েছে বোনাসও। উৎসবের আগে এই পরিস্থিতিতে সংসার চালানো নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন কর্মীরা। তাঁদের দাবি, বারবার সমস্যার কথা জানানো সত্ত্বেও বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সমিতিতে প্রায় ২৫০ জন কর্মরত রয়েছেন। হাওড়া থেকে গোলাবাড়ি, শোভাবাজার, বাগবাজার, চাঁদপাল, আর্মানি ঘাট ও প্রিন্সেপ ঘাট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফেরি পরিষেবা পরিচালনার দায়িত্ব তাঁদের উপর। এর পাশাপাশি হাওড়ার বাউড়িয়া ও নুরপুর জলপথেও পরিষেবা দেওয়া হয়। ফলে কর্মবিরতির প্রভাব পড়েছে একাধিক রুটের যাত্রীদের উপর।বুধবার থেকে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় হাওড়া স্টেশন হয়ে কলকাতায় যাতায়াতকারী বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।
বিশেষ করে পুজোর কেনাকাটা ও ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করা মানুষের কাছে এই পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলপথে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ কমে যাওয়ায় বিকল্প পরিবহণের উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।কর্মীদের আরও দাবি, পুজোর সময়ে সমিতির ১৪টি ফেরিঘাটে টিকিট বিক্রি করে কয়েক লক্ষ টাকা আয় হয়। তাঁদের বক্তব্য, সেই আয় থেকে অনায়াসেই কর্মীদের বকেয়া বেতন ও বোনাসের একটি বড় অংশ মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল। তা সত্ত্বেও কেন পাওনা টাকা দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।উৎসবের মরসুমে ফেরি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা যেমন যাত্রীদের স্বার্থে জরুরি, তেমনই কর্মীদের বকেয়া পাওনা মেটানোও গুরুত্বপূর্ণ। এখন দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পুজোর দিনগুলিতে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।