পদ্মপুকুর ইউথ ক্লাবের ১০৭তম বর্ষের দুর্গাপূজা: ‘দুর্গং শরণং’। দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পূজাগুলির মধ্যে অন্যতম পদ্মপুকুর ইউথ ক্লাব।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা
চলতি বছর (২০২৬) ক্লাবটি তাদের সাফল্যের ১০৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও তাদের ভাবনায় রয়েছে ভিন্নধর্মী এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পরীতির অনবদ্য মেলবন্ধন।
থিম ও মূল ভাবনা:
চলতি বছরে ক্লাবটির বিশেষ থিম ‘দুর্গং শরণং’। এই ভাবনার মধ্য দিয়ে মূলতঃ হিমালয় কোলের লোকসংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে।
শিল্পী ও নির্দেশনা:
মণ্ডপসজ্জা ও শিল্পনির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন সুপরিচিত শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা। তাঁর নিজস্ব মেধা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় রূপ পাচ্ছে এই বিশাল ক্যানভাস।
বিষয়বস্তু ও স্থান নির্বাচন:
সিকিম, ভুটান এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলের অধিবাসীদের লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই মণ্ডপে। পাহাড়ি জীবনের নিজস্ব যে শান্তি, সরলতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা রয়েছে, তা-ই তুলে ধরা হচ্ছে দর্শনার্থীদের সামনে।
পরিবেশবান্ধব উপাদান:
মণ্ডপসজ্জায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানের প্রয়োগ করা হচ্ছে। কৃত্রিম বা প্লাস্টিকের ব্যবহারে প্রাধান্য না দিয়ে সরাসরি গাছের পাতা, রকমারি ফুল এবং শুকনো ফল বা প্রাকৃতিকভাবে সংগৃহীত উপাদান দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত কারুকাজে সাজানো হচ্ছে সম্পূর্ণ মণ্ডপ।
দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণ
১. পাহাড়ি সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ অনুভূতি: শহরের বুকেই সিকিম ও ভুটানের সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের ছোঁয়া পাওয়ার সুযোগ।
২. প্রাকৃতিক শিল্পকলা: প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে শিল্পী কীভাবে এত বড় একটি মণ্ডপ ফুটিয়ে তুলেছেন, তা চাক্ষুষ করা এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
৩. ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন: ১০৭ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বহনকারী এই ক্লাবের থিমভিত্তিক উদ্যোগ পূজাপ্রেমীদের মন জয় করবে।