পুনেতে বাগদত্তকে খুন!

বিয়েতে অনীহা, তাই কি খুন? লোহগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে বাগ্‌দত্তকে হত্যার অভিযোগ, ধৃত তরুণী ও প্রেমিক

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিয়ে করতে না চাইলে সরাসরি ‘না’ বলতে পারতেন। কিন্তু তার বদলে বাগ্‌দত্তকে খুনের পথ কেন বেছে নেওয়া হল? এই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে পুনের আগরওয়াল পরিবারকে। মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার লোহগড় দুর্গে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’-র আড়ালে যে সুপরিকল্পিত খুন লুকিয়ে ছিল, তদন্তে সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন সিয়া গোয়াল এবং তাঁর বন্ধু চেতন চৌধুরী। মঙ্গলবার পুনের এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্ত দু’জনকেই ২৯ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৮ জুন বাগ্‌দত্ত কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে লোহগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিয়া। দুর্গ থেকে পড়ে গিয়ে কেতনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রথমে পুলিশকে খবর দেন সিয়া। ঘটনাটিকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে একের পর এক অসঙ্গতি।

পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, কেতন ছিলেন অভিজ্ঞ ট্রেকার। হঠাৎ করে দুর্গ থেকে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের কাছেও সন্দেহজনক বলে মনে হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তে উঠে আসে, গত এক বছর ধরে চেতন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সিয়ার। পুলিশ দাবি করেছে, দু’জনে মিলে পরিকল্পনা করেই কেতনকে খুনের ছক কষেছিলেন। গোপন সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন চেতনও লোহগড় দুর্গে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, সিয়া ও চেতন মিলে প্রথমে কেতনকে একটি ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাঁকে দুর্গের উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, জেরায় অভিযুক্ত দু’জনই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। যদিও আদালতে অভিযুক্তদের আইনজীবী পুলিশি হেফাজতের বিরোধিতা করেন।

এ দিকে, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন কেতনের বাবা। তাঁর কথায়, ‘‘সিয়া যদি বিয়ে করতে না চাইত, তা হলে সরাসরি জানালেই পারত। আমরা বিয়ে বাতিল করে দিতাম। কিন্তু কেন এমন নৃশংস পথ বেছে নেওয়া হল?’’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিয়া ও কেতনের বাগ্‌দান সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী দিনে তাঁদের বালি সফরে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল। তবে তার আগেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনা। কেতনের পরিবারের দাবি, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে।