হেড কোচ পাভলোস!

গ্রিসের হাই-প্রোফাইল ‘পাভলোস ডারমিটজাকিস’ এবার পাঞ্জাব এফসির নতুন হেড কোচ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আইএসএলের নতুন মরসুমের আগে কোচ বদলে বড় চমক দিল পাঞ্জাব এফসি। ২০২৬-২৭ মরসুমের জন্য গ্রিসের অভিজ্ঞ কোচ পাভলস ডারমিটজাকিসকে দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করেছে ক্লাব। ৫৭ বছর বয়সি এই কোচ গ্রিক সুপার লিগ ২-এর ক্লাব প্যানিওনিওস এফসি থেকে দু’বছরের চুক্তিতে পাঞ্জাবে যোগ দিয়েছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রিসের বিভিন্ন স্তরের ফুটবলে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতাকেই ভারতীয় ফুটবলে কাজে লাগাতে চাইছে পাঞ্জাব এফসি।

ডারমিটজাকিসের কোচিং-জীবনের শুরু ২০০২-০৩ মরসুমে গ্রিসের চতুর্থ ডিভিশনের ক্লাব এরগোটেলিসে। পরের বছর তিনি দায়িত্ব নেন আতসালেনিওসের। তাঁর কোচিংয়েই দলটি তৃতীয় ডিভিশনে উন্নীত হয়। শুধু তা-ই নয়, ২০০৫-০৬ এবং ২০০৬-০৭ মরসুমে নিজেদের মাঠে অপরাজিত থাকার নজিরও গড়েছিল তাঁর দল। পরে জিএস ডায়াগোরাস ১৯০৫-এর দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবকে গ্রিসের দ্বিতীয় ডিভিশন বেটা এথনিকিতে তুলেছিলেন তিনি।

এর পর গ্রিসের শীর্ষ লিগের একাধিক পরিচিত ক্লাব—পানথ্রাকিকোস, পিএওকে, অ্যাস্টেরাস ত্রিপোলিস এবং ওএফআই ক্রিটের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেন ডারমিটজাকিস। দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব ভেরিয়া ১৯৬০-র কোচ থাকাকালীন ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ মরসুমে টানা দু’বার উত্তর বিভাগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ২০২২ সালে প্যানসেরাইকোস এফসির দায়িত্ব নিয়ে ১২ বছর পর ক্লাবটিকে আবার গ্রিক সুপার লিগে ফিরিয়ে আনেন তিনি। ক্লাব পুনর্গঠন এবং তরুণ ফুটবলারদের উন্নতিতে তাঁর দক্ষতা বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে।

কোচিংয়ের আগে খেলোয়াড় হিসেবেও ছিল সমৃদ্ধ কেরিয়ার। ফরোয়ার্ড হিসেবে টানা ১৫ বছর গ্রিসের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন তিনি। নিজের শহরের ক্লাব কাভালা এফসি দিয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক। পরে পিএওকে, অ্যাথিনাইকোস, কালামাতা, পানেগিয়ালিওস, ইএ রেথিমনিয়াকৌ, আনাগেনিসি কার্ডিৎসা, আতরোমিতোস এবং এরগোটেলিসের মতো ক্লাবের জার্সিতে ৫০০-র বেশি ম্যাচ খেলেছেন। করেছেন ২০০-রও বেশি গোল।

নতুন দায়িত্ব নিয়ে ডারমিটজাকিস জানিয়েছেন, পাঞ্জাব এফসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। তাঁর কথায়, “এই ক্লাব শুধু আজকের ফল নিয়ে ভাবছে না, ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত গড়ে তুলতে চায়। তরুণ ভারতীয় ফুটবলারদের গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রতিযোগিতামূলক দল তৈরি এবং ফুটবলারদের উন্নতি ঘটানোর যে অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে, তা ক্লাবের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস করি।” নতুন কোচের হাত ধরে আসন্ন আইএসএল মরসুমে পাঞ্জাব এফসি কতটা বদলে যায়, এখন সেটাই দেখার।