“২৬-এর ভোটে তৃণমূলের পক্ষে ৯-০ করে পুরুলিয়ার সার্বিক উন্নয়নকে চালু রাখতে হবে।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে পুরুলিয়া জেলাকে আবার সবুজময় করতে হবে। বুধবার পুরুলিয়ার লধুড়কায় দলীয় সভা থেকে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “২০২১-এ ৩টি আসনে জিতেছি, ২০১৯ সালে ১টি আসনে জিতেছি, ২০২৪ আসনে ৯টার মধ্যে ৬টায় তৃণমূল এগিয়ে আছে। আগামী নির্বাচনে পুনরায় সবুজময় হওয়াটা সময়ের অপেক্ষা। ২৬-এর ভোটে তৃণমূলের পক্ষে ৯-০ করে পুরুলিয়ার সার্বিক উন্নয়নকে চালু রাখতে হবে।”
অভিষেক বলেন, “২০১১ সালে পুরুলিয়ায় মা মাটি মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের সরকার যে কর্মসূচিগুলো সরকার করেছে সকলে দেখেছেন। ২০১১ সাল থেকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছি। ২০১৬ সালে যে বিধানসভার ৯টি আসনের মধ্যে ৭টিতে তৃণমূলকে জিতিয়েছেন। উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত ছিল। ২০১৮ সালে রামনবমীকে কেন্দ্র করে জেলায় অশান্তিতে একের পর এক মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রদায়িক বিভাজন, মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রচার করা হয়েছে। ফলে ২০১৯-এ বিপুল ভোটে বিজেপির সাংসদ জয়যুক্ত হয়েছে। ২০২১ সালে জয়পুরে আমাদের প্রার্থীপদ খারিজ হয়। বাকি ৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বাঘমুন্ডি, বান্দোয়ান, মানবাজার বাদ দিয়ে ৫টি বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। ২০২৪-এ বাঘমুন্ডিতে প্রত্যাশিত ফল হয়নি, পুরুলিয়ায় পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি জিতেছিল। কিন্তু গত ভোটের ভোট শতাংশ দেখলে, দেখতে পাবেন- ২০২১-এ ৩টি আসনে জিতেছি, ২০১৯ সালে ১টি আসনে জিতেছি, ২০২৪ আসনে ৯টার মধ্যে ৬টায় তৃণমূল এগিয়ে আছে। আগামী নির্বাচনে পুনরায় সবুজময় হওয়াটা সময়ের অপেক্ষা। ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় সাফল্য হল, পুরুলিয়ার শান্তি সম্প্রীতি।”

এসআইআর নিয়েও পুরুলিয়ার সভায় ফের বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এসআইআর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আদালতে মামলা করেছিল। জয় হল সেই তৃণমূলেরই। তৃণমূল কংগ্রেস বলেছিল লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তা প্রকাশ করতে হবে। এবার তো সুপ্রিমকোর্টও বলে দিল যে, সেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এখানেই শেষ নয়, পঞ্চায়েত ধরে ধরে সেই তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অবশেষে বাংলার মানুষেরই জয় হল। এটাই পার্থক্য উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাটের সঙ্গে বাংলার। আমার মাটি সইবে না। ইউপি, বিহার হইবে না।”