জাপানের মাটিতে পুরুলিয়ার নাটুয়া শিল্পীরা

গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে জাপানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন পুরুলিয়ার নৃত্যশিল্পীদের

গৌতম প্রামাণিক, নিজস্ব সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড এক্সপো অনুষ্ঠানের মঞ্চ কাঁপিয়ে বাড়ি ফিরলেন নাটুয়া শিল্পীরা। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাপানের ওসাকাতে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলেছিল এই অনুষ্ঠান। সেখানে বিশ্বের মোট ১৬৮টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন দেশের রংবেরঙের সংস্কৃতির ছোঁয়া লক্ষ্য করা যায় এই অনুষ্ঠানে। যেখানে ভারতের ও বিভিন্ন রাজ্য থেকে শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিনিধিত্ব করে একটিমাত্র দল। সেই দল হল পুরুলিয়ার বলরামপুরের ঐতিহ্যবাহী নাটুয়া নৃত্যের দল। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সময় ওস্তাদ জগন্নাথ কালিন্দী, নৃপেন কালিন্দী, শিকার মাহাতো এবং বৈদ্যনাথ মাহাতো ওই ৪ জনের নাটুয়া শিল্পীর দল জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জাপানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এক্সপো অনুষ্ঠানে সকলের মন জয় করেন তাঁরা।

গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে জাপানের মাটিতে ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই নৃত্য পরিবেশন করেন জগন্নাথ, নৃপেন, শিকার, বৈদ্যনাথরা। স্থানীয় চাঁপাপুকুর রেল স্টেশনে নামতেই তাঁদেরকে ঘিরে ধরেন গ্রামবাসীরা। গলায় মালা পরিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাঁদের।

মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই নাটুয়াশিল্পীরা। গ্রামে ফিরতেই বাজনা বাজিয়ে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হয়। তাঁদের বাড়ি ফেরায় গর্বিত গ্রামবাসীরা। গ্রামের ছেলেরা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে নৃত্য পরিবেশন করে এসেছে, এই দেখে আনন্দে  আপ্লুত বলরামপুরের পাড়দ্দা গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামে ফিরে শিল্পীরা পাড়দ্দা গ্রামের প্রখ্যাত প্রয়াত নাটুয়া শিল্পী হাড়িরাম কালিন্দীর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন। জাপান সফরের অভিজ্ঞতার কথাও জানালেন তাঁরা।

ওস্তাদ জগন্নাথ কালিন্দী বলেন,”জাপানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২৫ অনুষ্ঠানে মোট ১৬৮ টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল। সেখানে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে নিজেদের গর্বিত অনুভব হচ্ছে। যেখানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুধুমাত্র আমাদের দল অংশগ্রহণ করেছিল। যার মধ্যে আমরা এই চারজন শিল্পী ছিলাম। তাই নিজেদের খুব গর্বিত লাগছে। এত বড় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার পর আজ নিজের গ্রামে ফিরে খুব আনন্দ হচ্ছে।”

বিদেশে নিজেদের নৃত্যকলা পেশ করার পর গ্রামে ফিরে এসেছে ঘরের ছেলেরা। এই ভেবেই আনন্দে আত্মহারা শিল্পীদের পরিবার পরিজন এবং গ্রামের বাসিন্দারা।