ডায়মন্ড হারবার এফসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন!

যোগ্যতা অর্জন করেও ‘ছিটকে’ গেল অভিষেকের ক্লাব, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে প্রশ্নের মুখে ভবিষ্যৎ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। দেশের ফুটবল মানচিত্রে ডায়মন্ড হারবার এফসির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হল নতুন প্রশ্ন। নিজেদের যোগ্যতায় আইএসএলে খেলার সুযোগ অর্জন করেও অংশগ্রহণের ফি জমা দিতে না পারায় আসন্ন আইএসএল থেকে ছিটকে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাব। বুধবার রাতে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) জানিয়ে দিল, ২০২৬-২৭ মরসুমে ১৩টি দলকে নিয়েই হবে আইএসএল।

বুধবার দুপুর পর্যন্ত ছিল অংশগ্রহণের ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা। জানা গিয়েছিল, নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে পারেনি ডায়মন্ড হারবার। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্লাবটিকে বাদ দিয়েই লিগ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাতে এআইএফএফ এবং ক্লাব জোটের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়, আসন্ন মরসুমে ১৩টি ক্লাব অংশ নেবে।

মাত্র কয়েক বছর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করেছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্য ফুটবলে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেয় ক্লাবটি। চার বছরের মধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ স্তরের লিগ আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নজর কেড়েছিল তারা। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই ক্লাবটির পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়।

এই মুহূর্তে অর্থাভাবে কার্যত থমকে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার এফসির কার্যকলাপ। আইএসএলে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পার্টিসিপেশন ফি-র প্রথম কিস্তির ৫৫ লক্ষ টাকাও জমা দিতে পারেনি ক্লাবটি। ফলে যোগ্যতা অর্জন করেও মাঠে নামার সুযোগ হারাতে হল তাদের।

এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের নজরেও রয়েছে ক্লাবটি। ডায়মন্ড হারবার এফসিকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, ক্লাবটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ই-মেলের মাধ্যমে এসেছে। বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।

ফলে আইএসএলে জায়গা পেয়েও শেষ পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারের অনুপস্থিতি শুধু ফুটবলের কারণে নয়, এর পিছনে আর্থিক ও রাজনৈতিক সমীকরণও রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।