রাজ্যসভায় ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরানো হল রাঘব চাড্ডাকে

রাজ্যসভার সেক্রেটারিয়েটকে চিঠি নিয়ে রাঘব চাড্ডাকে সরানোর আবেদন জানানো হল আম আদমি পার্টির তরফে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে (Raghav Chadha) সরিয়ে দিল আম আদমি পার্টি। দলের তরফে রাজ্যসভা সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে (Raghav Chadha) ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরানোর আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে ওই পদে বসানো হচ্ছে সাংসদ অশোক মিত্তলকে (Ashok Mittal).

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আপ চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে, রাজ্যসভায় দলীয় কোটায় বক্তব্য রাখার সময় বরাদ্দ থাকলেও চাড্ডাকে বলার সময় দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের নানান ইস্যুতে তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।

দলের অন্দরের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের(Arvind Kejriwal) নেতৃত্বে আয়োজিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দেখা যায়নি চাড্ডাকে। অথচ একসময় কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে পঞ্জাব রাজনীতিতে দলকে শক্তিশালী করতে এবং দিল্লিতে শাসনকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই তরুণ সাংসদ।

তবে দলীয় সূত্রের দাবি, সংগঠন ও প্রচারে তাঁর ভূমিকা ক্রমশ কমে এলেও সংসদের ভিতরে ও বাইরে বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক ইস্যুতে সরব ছিলেন রাঘব চাড্ডা। সাম্প্রতিক অতীতে বাড়তে থাকা বিমান ভাড়া থেকে শুরু করে গিগ কর্মীদের পরিস্থিতি—একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে অশোক মিত্তল বলেন, দলের জাতীয় আহ্বায়ক তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। রাজ্যসভায় দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জোরালো ভূমিকা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

তবে এই পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ মিত্তল। তাঁর কথায়, “এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর আগে এন ডি গুপ্ত এই পদে ছিলেন, তারপর রাঘব চাড্ডা দায়িত্ব পান। এখন আমায় সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, দলের প্রতিটি সাংসদকে শেখার সুযোগ দিতে এই ধরনের রদবদল করা হয়।

চাড্ডাকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তিনি নাকি বিজেপিতে যোগ দেবেন। সেই জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন মিত্তল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। পাশাপাশি আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে চাড্ডা রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও বলেন,  “আমাদের দল গণতান্ত্রিক। প্রত্যেক সাংসদই কথা বলার সুযোগ পান,”।

বর্তমানে আম আদমি পার্টির (Aam Aadmi Party) রাজ্যসভায় মোট ১০ জন সদস্য রয়েছেন—যার মধ্যে ৭ জন পঞ্জাব থেকে এবং ৩ জন দিল্লি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আসন্ন পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রদবদল রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রাঘব চাড্ডার পদ থেকে সরে যাওয়া নিছক রুটিন পরিবর্তন, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক মহলে।