আপে ইতি টেনে পদ্ম শিবিরে রাঘব চাড্ডা !

রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির দুই তৃতীয়াংশ সদস্যকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন রাঘব চাড্ডা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যসভায় বড় ভাঙনের মুখে আম আদমি পার্টি। আপের রাজ্যসভার নেতা রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha) একাধিকভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিজেপিতে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছিল। অবশেষে সেই আশঙ্কা সত্যি করে শুক্রবার চাড্ডা ঘোষণা করলেন যে, তিনি সহ রাজ্যসভার একাধিক সাংসদ যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। তাঁর দাবি, উচ্চকক্ষের মোট ১০ জন আপ সাংসদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছেন। চাড্ডার এই সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খেলেন দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)।

দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে চাড্ডা জানান, “আমরা ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছি।” তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ হরভজন সিং (Harbhajan Singh), সমাজকর্মী ও সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল (Swati Maliwal) সহ আরও কয়েকজন নেতা। তালিকায় রয়েছেন রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রম সাহনি, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক।

দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে চাড্ডার দাবি, যে আদর্শ নিয়ে আপ গড়ে উঠেছিল, তা থেকে সরে গিয়েছে দল। তাঁর কথায়, “আমি এই দলে ১৫ বছর কাটিয়েছি। কিন্তু আজকের আপ আর আগের মতো নেই। দুর্নীতি ও আপসের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে দল। আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ হয়ে থাকতে চাই না।” তিনি আরও জানান, রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া বা ‘সঠিক পথ’ বেছে নেওয়ার মধ্যে তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। সেজন্য তিনি দ্বিতীয় পথই বেছে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাঘব চাড্ডা। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ঢেউয়ে ভর করে ২০১৫ সালে দিল্লির ক্ষমতায় আসে দলটি। সেই সময় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন চাড্ডা।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে মন্ত্রিত্বও দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, আপের ভিত নড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ভাঙন। অন্যদিকে, বিজেপির শক্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

চাড্ডার এই পদক্ষেপের পর আপের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, তা নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। দলীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, এই ভাঙন যে আগামীদিনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।