দাবি এক নয়, বিষয়ও এক নয়। কোথাও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, কোথাও কৃষকদের দাবি, কোথাও ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন, আবার কোথাও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সেই সব প্রতিবাদকে একই ছাতার তলায় আনতে এ বার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার ‘সত্যাগ্রহ’ নামে ওই ওয়েবসাইটের সূচনা করে তিনি দেশবাসীর কাছে ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াইয়ের কথা জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

সমাজমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে রাহুলের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ নিজেদের অধিকার ও ন্যায়ের দাবিতে লড়ছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই লড়াই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাঁর দাবি, ‘সত্যাগ্রহ’ সেই বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদগুলিকে একটি প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করার উদ্যোগ।
কী ভাবে কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম?
রাহুল জানিয়েছেন, যে কোনও আন্দোলনকারী বা প্রতিবাদকারী সেখানে নিজের নাম, সংগঠনের নাম এবং আন্দোলনের বিষয় জানাতে পারবেন। ইন্টাব়্যাক্টিভ এই প্ল্য়াটফর্মে দেশের কোথায় একই ধরনের আন্দোলন চলছে, তা-ও দেখা যাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারীরা সরাসরি সাহায্যের আবেদন জানাতে পারবেন।
মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের দর্শনের উল্লেখ করে রাহুল বলেন, সত্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দাঁড়ানো আরও শক্তিশালী হাতিয়ার। তাঁর কথায়, জেন-জি, পড়ুয়া, কৃষক, আদিবাসী, দলিত এবং মহিলাদের—প্রত্যেকের লড়াইয়ের আলাদা গল্প রয়েছে। কিন্তু একা উঠে আসা কণ্ঠ অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।
ভিডিয়ো বার্তাতেও রাহুল বলেন, দেশের নানা প্রান্তে ‘লক্ষ লক্ষ’ প্রতিবাদ চলছে। বিরোধী দলনেতা হিসাবে সেই সমস্ত আন্দোলনের তথ্য এক জায়গায় নিয়ে আসতেই এই উদ্যোগ। তাঁর আশ্বাস, কোনও আন্দোলনকারীর সাহায্যের প্রয়োজন হলে সংসদে, রাস্তায় কিংবা চিঠি লিখে—যে ভাবে সম্ভব, তিনি পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।
অর্থাৎ, বিরোধী রাজনীতির মঞ্চের বাইরে সাধারণ মানুষের আন্দোলনগুলিকেও একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্কে জুড়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘সত্যাগ্রহ’-এর সূচনা করলেন রাহুল গান্ধী।