২ হাজারের বেশি ইউপিআই লেনদেনে ফি ? বিতর্ক তুঙ্গে!

রাহুলের অভিযোগ উড়িয়ে দাবি কেন্দ্রের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ফি বসানোর কোনও সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নেয়নি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘অসত্য’ বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে। মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই মুহূর্তে ইউপিআই লেনদেনে নতুন করে কোনও ফি চালু করা বা বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন নেই।

আঠাওয়ালের কথায়, ‘‘২ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলেই সরকার ফি বসানোর কথা ভাবছে— রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এখনও পর্যন্ত এমন কোনও বিষয়ের পরিকল্পনা সরকারের নেই।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অযথা সমস্যায় ফেলতে চায় না নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ব্যবসা সহজ করার উপরই কেন্দ্রের জোর।

এই মন্তব্যের সূত্রপাত রাহুলের একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট। লোকসভার বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, কেন্দ্র ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘জ়িরো মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা শূন্য এমডিআর নীতি বদলের পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বসানোর সুযোগ তৈরি হলে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের উপরেই চাপবে।

রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘চুপিসাড়ে UPI লেনদেনের উপর মাশুল বসানোর দরজা খুলে দিল মোদী সরকার। বর্তমানে ২০০০ টাকার বেশি লেনদেনে MDR ধার্য করা যেতে পারে। সংখ্যার বিচারে সেগুলি মোট লেনদেনের মাত্র ৫ শতাংশ।  কিন্তু UPI-এর মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের মোট অর্থমূল্যের প্রায় ৬৫ শতাংশই এগুলি থেকে আসে। সরকার বলছে গ্রাহকদের থেকে কোনও মাশুল আদায় করা হবে না। কিন্তু দোকানদারদের উপর যে মাশুল চাপানো হবে, তার ভার শেষ পর্যন্ত কাদের কাঁধে এসে পড়বে? জিনিসপত্রের দামের সঙ্গে ধরে নেওয়া হবে, যা সরাসরি গ্রাহকদের পকেট থেকেই যাবে’।

কংগ্রেস নেতার আরও অভিযোগ, আমেরিকার পেমেন্ট সংস্থাগুলি দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতে চালু শূন্য এমডিআর নীতির বিরোধিতা করে আসছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের নীতিতে বদলের উদ্যোগ সেই চাপেরই ফল।

তবে সেই অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন আঠাওয়ালে। তাঁর দাবি, মোদী সরকার কোনও বিদেশি শক্তির চাপে সিদ্ধান্ত নেয় না। আমেরিকার পাশাপাশি চিন, রাশিয়া, ইরান-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ইউপিআই লেনদেনে ২ হাজার টাকার বেশি অঙ্কের উপর ফি বসানোর এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’’