রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দুই দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি এ আর নতুন কী। কিন্তু তা বলে অনুব্রত মণ্ডলের অফিসে ভাঙচুর। অনুব্রত মণ্ডলকে আঙুল তুলে শাসানো এমনকি বাঁশ হাতে তিন যুবকের কাছে অনুব্রত মণ্ডলের মিন মিন করে ক্ষমা চাওয়া। এত বছর ধরে অনুব্রত মণ্ডলের ধমকানি, চমকানি দেখে অভ্যস্থ বাংলার মানুষ তাই এই ভিডিও দেখে হতবাক। অনুব্রত মণ্ডল যে দক্ষিণী সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন তা নিজে মুখেই বলেছেন। তাই কি অনেকে বলছেন এই হামলার ঘটনা স্ক্রিপটেড। অর্থাৎ গোদা বাংলায় বললে এই হামলার ঘটনা নাকি অনুব্রত মণ্ডলের মস্তিষ্ক প্রসূত।

হামলার যে ভিডিও সামনে এসেছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে অনেকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কেন এই হামলা নাটক বলে মনে হচ্ছে। আসল সত্যিটা কি বলুন তো। যা রটে তার কিছুটা কি সত্যিই বটে। কেষ্ট মণ্ডল ভালো তৃণমূলে গিয়েও কি শুধরোলেন না। এখন তো আর হালুম টালুম করেন না। গত বিধানসভা ভোটেও তাঁর মুখে সুপার হিট ডায়লগও শোনা যায়নি। তারপরেও কেন সবাই প্রশ্ন তুলছেন অনুব্রত নাটক করছেন। অনুব্রত মণ্ডলের সেই ক্ষমতা নেই, মাথার উপর মমতার হাতও নেই, তিনি এখন ঋতব্রত শিবিরে। নামে হয়তো বাঘ কিন্তু হুঙ্কার দেওয়ার শক্তিতো হারিয়েছেন তার পরেও কেন তাঁর অফিসে বহিরাগতরা হামলা করতে সাহস পাবে না।
অনুব্রত মণ্ডলের অফিসে হামলার ছবি দেখল গোটা বাংলা। কীভাবে শাসানি, কোনও খারাপ কিছুও তো হতে পারতো কিন্তু তারপরেও কেষ্ট মণ্ডল এতটা কুল কী করে। ক্ষমাই পরম ধর্ম বলে তিনি কি থানায় গেলেন না। থানায় এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়নি। যে তিনটি ছেলেকে গ্রেফতার করা হল তাদেরও পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে একটু ধমকে ছেড়ে দিয়েছে। আর তাই এখানেই উঠেছে প্রশ্ন। কেষ্ট মণ্ডল কেন হামলার ঘটনায় এতটা নিঃপ্রভ। নিরাপত্তার অভাববোধ দেখিয়ে বিজেপির দিকে প্রথমে আঙুল তুলেছিলেন, কিন্তু গোটা ঘটনা অন্যমোড় নিতেই বিজেপি নেতৃ্ত্ব রে রে করে উঠেছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি তো অনুব্রত মণ্ডলের দিকেই আঙুল তুলেছেন।
তৃণমূলে কেষ্ট মণ্ডল যদি বুনো ওল হন তাহলে বিজেপির বাঘা তেঁতুল দিলীপ ঘোষ। অনুব্রত মণ্ডল বনাম দিলীপ ঘোষের মনোমালিন্য কম দেখেনি বাংলার মানুষ। মনে আছে পূ্র্ব বর্ধমানের এক সভায় দিলীপ ঘোষকে ফোর টোয়েন্টি, দালাল বলে কটাক্ষ করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। দিলীপ ঘোষও নানা সময় অনুব্রত মণ্ডলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। অনুব্রতর জেলযাত্রার সময় বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি তখন বলেছিলেন ২৩ শের পঞ্চায়েত ভোটের আগে অনুব্রত মণ্ডল জামিন পেলে রক্ত ঝরবে। তাই অনুব্রত বেকায়দায় পড়তে সুযোগ হাতছাড়া করেননি দিলীপবাবু। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। যেমন দিয়েছ তেমন পাবে।
বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা অনুব্রতর বিরুদ্ধে বলবে এ স্বাভাবিক কিন্তু কেষ্ট মণ্ডলের দলের লোকেরাই তো ঘটনা নিয়ে সন্দিহান। কাজল শেখ তিনিও প্রশ্ন তুলেছেন। অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে সাজানো ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছেন কাজল শেখ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার পরে মহামান্য আদালত নিরাপত্তা দিয়েছিল, তেমনই এই ঘটনাও সাজানো। সিকিউরিটি পাওয়ার আশায়। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে চড়াম চড়াম ঢাক বাজাত, সকলকে গুড় বাতাসা খাওয়াত তাঁকেই আজ নিজের পার্টি অফিসে হামলার মুখে পড়তে হল। অনুব্রত পুলিশি সিকিউরিটি ছাড়া কিছুই নয় বলে কটাক্ষ কাজল শেখের। সবাই যখন অনুব্রত বিরুদ্ধে তখন পাশে দাঁড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় তাঁর সরাসরি অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমাদের নেতা অনুব্রত মণ্ডলের উপর যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে তাঁর নিন্দার কোনও ভাষা নেই। যেভাবে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে বিজেপির গুণ্ডারা ভাঙচুর চালিয়েছে তাঁর নিন্দার কোনও ভাষা নেই।”
বীরভূমের ১১ টি আসনের মধ্যে ৬ টি বিজেপির দখলে। বিজেপি এখন শাসকের আসনে। তাই লালমাটির দেশে আর কেষ্ট মণ্ডলের বাঁশি শোনার লোক কোথায়। তাই রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহার দাবি কেষ্ট মণ্ডলের দ্বারা যারা অত্যাচারিত তারাই এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে।
অতএব অনুব্রত মণ্ডলের অফিসে হামলা নিয়ে নানা মত ,অনেকে বলছেন পুরোটাই গটআপ। প্রশ্ন ওঠার কারণও যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। কেন থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন না অনুব্রত তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন জেগেছে, তেমনই অভিযুক্তদের পুলিশ ছেড়েও দিয়েছে।