রাহুল : ভারত মাতাকে বিক্রি করতে লজ্জা করল না ?

“ আপনারা আমাদের মা, আমাদের ভারত মাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। আপনাদের লজ্জা করল না? মজার বিষয় হল আমি জানি প্রধানমন্ত্রী স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভারতকে বিক্রি করতেন না।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সংসদের বাজেট অধিবেশনের একাদশতম দিনে লোকসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বক্তৃতার শুরুতেই ‘মার্শাল আর্ট’-এর উপমা টেনে রাহুল বলেন, “আমরা যুদ্ধের যুগে প্রবেশ করেছি। গাজা-ইজ়রায়েল থেকে ইউক্রেন—বিশ্বজুড়ে পুরনো ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে। আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সম্পদ তথ্য, আর সেই তথ্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্বালানি।”

ডেটা সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতীয়দের হাতে বিপুল তথ্যভান্ডার রয়েছে, যার দিকে আমেরিকা ও চিনের নজর রয়েছে। “এখন কি আমেরিকা ঠিক করবে, আমরা কোথা থেকে তেল কিনব? জ্বালানি এবং অর্থ—দুটোকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে,” লোকসভায় দাঁড়িয়ে এমনই মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘যুদ্ধের যুগ শেষ’ মন্তব্যকেও ভুল বলে দাবি করে রাহুল গান্ধী বলেন, “বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।”

ভারত মাতাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের মা, আমাদের ভারত মাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। আপনাদের লজ্জা করল না? মজার বিষয় হল আমি জানি প্রধানমন্ত্রী স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভারতকে বিক্রি করতেন না। তাঁর কৃতকর্মের জন্য আমেরিকা আমাদের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছিল। ঘাড় ধরে যা খুশি করাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন।”

বাজেট ও বাণিজ্য নীতি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, “আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারত। অথচ ভারতীয় পণ্যের উপর গড় শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে উঠেছে। এদিকে আমেরিকান আমদানিতে শুল্ক শূন্যে নামানো হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।”

ডেটা-রাজনীতি প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য, “আজ বিশ্বের আসল লড়াই তথ্য নিয়ে। ডলারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় ডেটা গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য যে কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ভারতের স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষি—এই তিনটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”

শিল্পপতি অনিল অম্বানিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর প্রশ্ন- “কেন তিনি জেলে নেই ? তিনি জেলে নেই। কারণ তাঁর নাম এপস্টিন ফাইলসে আছে। হরদীপ সিং পুরী তাঁকে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।”

কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে রাহুল গান্ধীর একের পর এক তোপ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় লোকসভায়। ব্যাপক হইহট্টগোল শুরু হয় সংসদের নিম্নকক্ষে।