শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: সুন্দরবন লাগোয়া হেমনগর অঞ্চলে ফের নদী বাঁধে বড়সড় ধস। হু হু করে জল ঢুকছে বুধবার রাতে রায়মঙ্গল নদীর প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে পড়ে যায় নদীর জলে। মুহূর্তের মধ্যে বাঁধের অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকা জুড়ে। নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে হেমনগর সহ পার্শ্ববর্তী কমপক্ষে দশটি গ্রাম জলের নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছিল। গত কয়েকদিনের ভাটার সময় নদীর তীব্র স্রোতে ফাটল বড় হতে হতে এদিন রাতে হঠাৎ ধস নামে। বাঁধের মাটি ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নদীর জল বাঁধ পেরিয়ে গ্রামের ভিতরে ঢুকতে শুরু করে। রাতের অন্ধকারে বাঁধ সংলগ্ন গ্রামগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সুন্দরবনের চাষিরা জানিয়েছেন, বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি নদীর জলে তলিয়ে যাবে। ধান, পাট ও শীতকালীন সবজির চাষ এক মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জমিতে নদীর নোনা জল ঢুকে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই অবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে এলাকার সর্বত্রই। হেমনগর ও আশপাশের এলাকায় এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলছে। গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধে বালির বস্তা ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই নিরাপদ জায়গায় সরে গিয়েছে। নারকেল গাছ, বাঁশ, বস্তা—যে যা হাতে পাচ্ছেন তাই দিয়ে নিজেদের মতো করে বাঁধ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় বিধায়ক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। পঞ্চায়েত ও সেচ দফতরের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাঁধ মেরামতির পরিকল্পনা নেন। বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল জানান, “এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন সর্বশক্তি দিয়ে কাজ শুরু করেছে। বাঁধ পুরোপুরি রক্ষা করতে না পারলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
বর্তমানে এলাকায় নদীর স্রোত ক্রমেই বাড়ছে। ভাঁটার পর পরবর্তী জোয়ারে জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেলে বিপদের আশঙ্কা প্রবল। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ সংস্কার ও শক্তপোক্ত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।