স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে সিজেপি!

রাজস্থানে সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সরকারি স্কুলের হালহকিকত দেখতে গিয়ে হামলার অভিযোগ উঠল রাজস্থানে। জয়পুরের রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যায় ককরোচ জ়নতা পার্টি (CJP)-র প্রতিনিধিদল। তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের বেহাল পরিকাঠামোর ছবি যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সে জন্যই রাজনৈতিক মদতে হামলা চালানো হয়েছে।

CJP-র প্রতিনিধিদের দাবি, স্কুলটির পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁরা একটি সংগঠিত দলের বাধার মুখে পড়েন। তাঁদের শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ। ভাঙচুর করা হয়েছে তাঁদের গাড়িতে। এমনকি, ঘটনাস্থলে পাথর ছোড়ার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

রাজস্থানের বিরোধী দলনেতা টিকা রাম জুলি ঘটনার নিন্দা করে বলেন, ‘‘এটা ভুল। হিংসার কোনও জায়গা নেই। স্কুলগুলির প্রকৃত অবস্থা সাধারণ মানুষের সামনে আসা উচিত।’’ তাঁর অভিযোগ, স্কুলের বেহাল দশা আড়াল করতেই হিংসার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে মত প্রকাশের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিংহ দোতাসরা আরও এক ধাপ এগিয়ে অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা সাধারণ গ্রামবাসী নন, বিজেপির কর্মী। তাঁর দাবি, ‘‘জনস্বার্থে যে কোনও কাজের বিরোধিতা করাই বিজেপি কর্মীদের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ স্কুলে যাওয়া বা সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কাউকে বাধা দেওয়া হলে কংগ্রেস তাঁদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার সময় CJP কর্মী আশুতোষ রাঙ্কা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনও পদক্ষেপ করেনি। CJP-র কয়েক জন স্বেচ্ছাসেবকের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, গাড়ি ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন রাঙ্কা।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের জারি করা নতুন নির্দেশিকা। সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিয়ো করার উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, স্কুলগুলির বেহাল পরিকাঠামো আড়াল করতেই এই সিদ্ধান্ত। যদিও সরকারের বক্তব্য, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও স্কুলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজস্থানে শিক্ষা-পরিকাঠামো এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হল।