SIR: হারানো পুত্র সন্তানকে মায়ের কোলে ফেরাল !

৪০ বছর আগে পুত্রসন্তান হারিয়ে গিয়েছিল। SIR প্রক্রিয়ার আবহেই মায়ের কোলে ফিরে এল হারানো সন্তান। রাজস্থানের একটি গ্রামের এই গল্প মন ছুঁয়ে গিয়েছে বহু মানুষের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দেশজুড়ে এসআইআর (SIR)কে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের চর্চা চলছে। ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান নিয়ে নানান নেতিবাচক অভিযোগ উঠেছে এসআইআর (SIR) নিয়ে। এরইমধ্যে একটি বিষ্ময়কর ঘটনা ঘটে গেল রাজস্থানে। রাজস্থানের ভিলওয়ারা গ্রামে হারিয়ে যাওয়া পুত্র সন্তান এবং মায়ের মধ্যে সেতু তৈরি করে তাঁদের মিলিয়ে এক করে দিল এসআইআর (SIR)।  

ভিলওয়ারা

দেশজুড়ে এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন চর্চা চলছে। ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান নিয়ে নানান নেতিবাচক ঘটনা উঠে আসছে দেশজুড়ে। কোথাও ভোটারদের নাম ওঠেনি। কোথাও আবার চাপসৃষ্টির জেরে বিএলওরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, অনেকের তো আবার চাপ সহ্য করতে না পেরে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও আবার চাপ নিতে না পেরে বিএলও আত্মহত্যা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তো কোথাও তালিকায় নাম না থাকায় মানুষ আত্মহত্যা করছেন বলেও অভিযোগ উঠে আসছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ভালো খবর মিলল রাজস্থানের ভিলওয়ারায়। ৪০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া পুত্র সন্তানের খোঁজ পেলেন তাঁর মা-বাবা। পরিচয় হারিয়ে ছত্তিসগড়ে অনাথ হয়েই জীবন কাটাচ্ছিলেন ছেলে। এইসময়ে এসআইআর অভিযানের মধ্যে ৪০ বছর পর মা-বাবাকে খুঁজে পেলেন উদয় সিং।

উদয় জানাচ্ছেন, ১৯৮০ সালে হঠাৎ হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর পরিজনরা ৩০ বছর ধরে তাঁর সন্ধান চালিয়েছেন। কিন্তু খুঁজে পাননি। বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হওয়ার পর, একটি পথদুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়েছে তাকে। এর ফলে তাঁর স্মৃতিশক্তি চলে যায়। বর্তমানে উদয় সিং ছত্তিসগড়ের একটি বেসরকারি সংস্থায় গার্ডের কাজ করেন। এর ফলে পরিবার, পরিচয় সবটাই আবছা হয়ে যায় উদয়ের কাছে। এর মধ্যে এসআইআর অভিযান শুরু হয়েছে। আধিকারিকদের উদয় কেবল নিজের জাতি এবং গ্রামের নাম সুরজ বলেন।

বুধবার উদয় সিং ভিলওয়ারার সুরজ গ্রামের থাকা স্কুলের ভোটার তালিকা দেখতে যান। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং রেকর্ড মেলানোর সময় এক শিক্ষকের সন্দেহ হয়। উদয়ের বাবা-মাকে খবর দেন তিনি। পরিজনরা স্কুলে পৌঁছতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উদয়। পরিবারের সদস্যদের ছোটবেলার পুরনো কথা বলতেই তাঁদের বিশ্বাস হয়। মা চুনী দেবী রাওয়াত ছেলেকে বুকে টেনে নেন।

ছেলে মা-বাবাকে খুঁজে পেতেই গোটা গ্রামের বাসিন্দারা আনন্দে মেতে ওঠেন। ঢাক-ঢোল, বাজনা ও ডিজে বাজিয়ে এমন আনন্দের মুহূর্তকে উদযাপন করেন গ্রামবাসীরা। উদয় সিং জানান, দুর্ঘটনার পর তাঁর স্মৃতিশক্তি চলে গিয়েছিল। সেজন্য সে আর মা-বাবাকে খুঁজে পায়নি।