১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব গরমিলের অভিযোগ, উদ্বেগে LIC বিনিয়োগকারীরা!

মাম্পি রায়,সাংবাদিক : এক সময় ভারতের স্বর্ণ ব্যবসার অন্যতম সফল নাম ছিল বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক সংস্থা রাজেশ এক্সপোর্টস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সোনা পরিশোধন ও গয়না রফতানির মাধ্যমে বিপুল ব্যবসা গড়ে তুলেছিল সংস্থাটি। কিন্তু সেই সংস্থার বিরুদ্ধেই এ বার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা Securities and Exchange Board of India (সেবি)।
গত ৩ জুন জারি করা একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে সেবি রাজেশ এক্সপোর্টস এবং সংস্থার প্রোমোটার-চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতার (Rajesh Mehta) উপর শেয়ারবাজারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেবির অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরে সংস্থার হিসাবপত্রে বিপুল গরমিল রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘোষিত রাজস্ব ও যাচাইযোগ্য প্রকৃত আয়ের মধ্যে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার পার্থক্য পাওয়া গিয়েছে, যা ভারতের কর্পোরেট ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সেবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এক অংশীদারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। পরে ফরেনসিক নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক অডিট সংস্থা BDO-কে। তদন্তে উঠে আসে, রাজেশ এক্সপোর্টসের মোট সমন্বিত রাজস্বের ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই এসেছে বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলির মাধ্যমে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সুইৎজ়ারল্যান্ডের স্বর্ণ পরিশোধনকারী সংস্থা ভ্যালক্যাম্বি এসএ (Valcambi SA), যা কয়েক বছর আগে অধিগ্রহণ করেছিল রাজেশ এক্সপোর্টস।
তদন্তে অভিযোগ, সহযোগী সংস্থাগুলির প্রকৃত হিসাবের সঙ্গে মূল সংস্থার ঘোষিত রাজস্বের উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার সোনার খনিতে ১,০৩৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নথিও সংস্থা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ। আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে Affluence Shares and Stocks Private Limited-এর সঙ্গে দেখানো প্রায় ১১,৫০০ কোটি টাকার ক্রয়-বিক্রয় লেনদেন ঘিরে। তদন্তে ওই সংস্থা নাকি এমন কোনও লেনদেনের অস্তিত্বই অস্বীকার করেছে।
সেবির আরও অভিযোগ, সংস্থার কিছু অর্থ চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং তার একটি অংশ ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, রাজেশ এক্সপোর্টস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের ঘোষিত রাজস্ব সম্পূর্ণ সঠিক এবং সেবির সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদানে বিভ্রান্তির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চাপে পড়েছে সংস্থাটি। রাষ্ট্রায়ত্ত Life Insurance Corporation of India-র মতো বড় বিনিয়োগকারীরাও উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে ঋণখেলাপির অভিযোগে Canara Bank সংস্থার ঋণকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। সেবির নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য ভাবে নেমেছে। ফলে দেশের কর্পোরেট জগতে রাজেশ এক্সপোর্টসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা।