তারকা নই, মাটির মানুষ : রাজন্যা

জটিলতা কাটিয়ে শনিবার বারুইপুরের এসডিও অফিসে গিয়ে সফলভাবে মনোনয়ন জমা দিলেন রাজন্যা হালদার।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদারের মনোনয়ন ঘিরে নাটকীয়তা কাটল অবশেষে। শুক্রবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কিছু অসংগতি থাকার কারণে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারলেও, শনিবার সেই সমস্যার সমাধান করে বারুইপুরের এসডিও অফিসে গিয়ে সফলভাবে মনোনয়ন জমা দিলেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন এবং মনোনয়ন জমা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে হঠাৎই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কিছু জটিলতা সামনে আসে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। তবে হাল ছাড়েননি রাজন্যা হালদার। রাতারাতি সেই সমস্যা মিটিয়ে শনিবার ফের নতুন উদ্যমে বারুইপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে হাজির হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সমর্থকরা, এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজন্যা হালদার স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি রাজনীতিতে এসেছেন সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে। তাঁর কথায়, “আমাদের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার খিদে রয়েছে। আমরা কোনো তারকা নই যে হাতে সানস্ক্রিন বা স্যানিটাইজার নিয়ে মানুষের সঙ্গে হাত মেলাবো। আমরা মাটির মানুষ, মানুষের সমস্যার সমাধান করতেই রাজনীতিতে এসেছি।”
তিনি সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে বরাদ্দ হওয়া অর্থ কোথায় গেল এবং সেই অর্থে প্রকৃত কাজ কেন হলো না—এই নিয়ে সরব হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আর সেই কারণেই তিনি এই নির্বাচনে লড়াই করছেন।
নিজের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন রাজন্যা। তিনি জানান, একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে কোনো ব্যক্তিগত লাভ বা কু-উদ্দেশ্যে নয়, বরং আদর্শের টানে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁর পরিবারও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিল—তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁর পূর্বপুরুষরা একসময় ইন্দিরা গান্ধীকে স্বচক্ষে দেখেছেন। আর তিনি নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগ্রামকে কাছ থেকে দেখেছেন এবং সেই সংগ্রামের প্রতি সম্মান রেখেই রাজনীতিতে এসেছিলেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, অতীতের সেই সংগ্রামী নেতৃত্ব এবং বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “সেই সময়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর বর্তমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেও সেই পরিবর্তন স্পষ্ট।”
রাজন্যা আরও জানান, আরজিকারের ঘটনা, এসএসসি দুর্নীতি, কলকাতার ল কলেজ সংক্রান্ত বিতর্কসহ একাধিক ঘটনার পর তিনি তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন। তিনি বলেন, “আমি অস্বীকার করছি না যে আমি তৃণমূলে ছিলাম। কিন্তু অসৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে আপস করা যায় না। আপস করতে পারি না বলেই আমি দূরে সরে এসেছি।”
শেষে তিনি আবেগঘন সুরে বলেন, “আমি গর্বিত যে আজও বাবা-মায়ের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারি। কারণ আমি অসৎতার সঙ্গে আপস করিনি।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নিজের সততা এবং আদর্শকে সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চান রাজন্যা হালদার।
সব মিলিয়ে, প্রথম দিনের ব্যর্থতা কাটিয়ে দ্বিতীয় দিনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে নতুন করে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন নির্দল প্রার্থী। এখন দেখার, এই লড়াই ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ?