নেপালে ভোটে বড় চমক, র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহের পাল্লা ভারী

নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তথা প্রাক্তন ব়্যাপার বালেন্দ্র শাহকেই পছন্দ Gen Z-র

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত। প্রতিষ্ঠিত দলগুলিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহের নতুন দল রাষ্ট্ৰীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১৬১টির ফল সামনে আসতেই দেখা যাচ্ছে আরএসপি এগিয়ে রয়েছে।

নেপালের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৬টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে আরএসপি। আরও প্রায় ১১০টি আসনে দলটি এগিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ফলাফল বজায় থাকলে নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলির প্রভাব অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত মুখ বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার হলেও তিনি প্রথমে জনপ্রিয়তা পান নেপালি হিপ-হপ গানের জগতে। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দ্রুত তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব তৈরি করেন। কিছুদিন আগেও তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র ছিলেন।

এই নির্বাচনে তিনি ঝাপা-৫ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন নেপালের প্রবীণ রাজনীতিক ও কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলি। চার বার নেপালের প্রধানমন্ত্রী থাকা ওলি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই শক্ত ঘাঁটিতেই পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, বালেন শাহ প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে ওলির ঝুলিতে এখনও পর্যন্ত পড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ভোট। এই ব্যবধান রাজনৈতিক মহলে বড় চমক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল নেপালের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের হতাশারই প্রতিফলন। গত প্রায় দুই দশকে দেশটিতে একের পর এক সরকার বদল হয়েছে। মাত্র ১৮ বছরে ১৪টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং উন্নয়নের গতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল।

তার উপর সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া প্রতিবাদ আন্দোলন নেপালের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সেই ‘ Gen Z’ প্রতিবাদের পরই এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল নেপালেই। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের বড় অংশই এবার নতুন রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছেন।