রাজকীয় সাজে বিবাহবন্ধনে ‘বিরোশ’!

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল রাজকীয় বিবাহের সেই ছবি। বিয়ের আসর থেকে একগুচ্ছ সোহাগী ছবি ভাগ করে নিয়েছেন নবদম্পতি বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : অবশেষে জল্পনার অবসান। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিরোশ। দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল রাজকীয় বিবাহের সেই ছবি।

বিয়ের আসর থেকে একগুচ্ছ সোহাগী ছবি ভাগ করে নিয়েছেন নবদম্পতি। কোথাও দেখা গিয়েছে, বিজয়ের নাকে আলতো চুম্বন এঁকে দিচ্ছেন রশ্মিকা, কোথাও আবার আবেগে চোখের জলে ভিজে উঠেছে কনের চোখ। তাঁদের প্রেমের সূচনা হয়েছিল ‘ডিয়ার কমরেড’ ছবির শুটিং সেটে, সেখান থেকেই শুরু পথচলা শুরু। বৃহস্পতিবার তেলুগু রীতি মেনে চার হাত এক হল।

লাল রঙের শাড়ি ছিল রশ্মিকার পরণে। সঙ্গে ছিল মানানসই জমকালো ব্লাউজ। মাথায় সোনার ভারী টায়রা। গলায় হাতে ভারী ভারী সোনার গয়না। অন্যদিকে বিজয়ের পরণে ছিল সাদা ধুতি ও লাল রঙের জমকালো উত্তরীয়। বিজয়ের শরীরেও ভারী সোনার গয়না ছিল। সবমিলিয়ে বিয়েতে বর কনে দুজনের সাজেই ছিল রাজকীয়। বিয়ের সাজে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল রশ্মিকা ও বিজয়ের গালে এঁকে দেওয়া হয় একটি করে কালো তিল। কথিত আছে ও নকল তিল নবদম্পতিকে কুনজর থেকে বাঁচাবে।

‘অর্জুন রেড্ডি’ ছবির মাধ্যমে খ্যাতি পান বিজয়। তবে বলিউডে এখনও তেমন সাফল্য মেলেনি। লাইগার ছবিতে অনন্যা পাণ্ডের বিপরীতে অভিনয় করলেও বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে সেই ছবি। অন্যদিকে রশ্মিকা ধারাবাহিকভাবে বলিউডে নিজের জমি শক্ত করেছেন। ‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো ছবিতে অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। দক্ষিণী ব্লকবাস্টার ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর সাফল্যও তাঁর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়েছে।

শোনা যায়, রশ্মিকার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। ছবিপ্রতি পারিশ্রমিক প্রায় ৪ কোটি। ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেন তিনি। বেঙ্গালুরু, মুম্বই, হায়দরাবাদ ও গোয়ায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। কুর্গে তাঁর বিলাসবহুল বাড়ির মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। গাড়ির তালিকায় রয়েছে রেঞ্জ রোভার, অডি, মার্সিডিজ়-সহ একাধিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।

অন্যদিকে বিজয়ের সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ৬৬ থেকে ৭০ কোটির মধ্যে। ছবিপ্রতি ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন তিনি। হায়দরাবাদে ১৫ কোটির বাংলো, বিলাসবহুল গাড়ি ও একটি ব্যক্তিগত জেট— সব মিলিয়ে আভিজাত্যে কোনও খামতি নেই। পেশাগত ওঠাপড়ার মধ্যেও রশ্মিকা ও বিজয়ের সম্পর্কের গভীরতাও সমানতালে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোনও সাক্ষাৎকারে বিজয়ের নাম শুনলেই লজ্জায় লাল হয়ে যেতেন রশ্মিকা। তবে কখনই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। অন্যদিকে বিজয়ও সরাসরি রশ্মিকাকে নিয়ে কখনও মুখ খোলেননি। বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি ভাগ করে নিয়ে বিজয় সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, আমার ওকে খুব মনে পড়ছিল। তখনই বুঝেছিলাম ও কাছে থাকলে ভালো লাগে। আমার খাওয়াদাওয়া সুন্দর হয়ে ওঠে। জিমে থাকলে আমার কষ্ট কম আনন্দ বেশি হয়। তখনই বুঝেছি আমার ওকে প্রয়োজন। আমি যেখানেই থাকি, ও পাশে থাকলে মনে হয় আমি ঘরে আছি। প্রিয় বন্ধুকেই স্ত্রী হিসেবে পেয়েছি আমি।