তৃণমূলে ‘পাল্টা কমিটি’, অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান ঘোষণা বিদ্রোহীদের
অভিষেক সাসপেন্ড, মমতার নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সোমবার আরও তীব্র আকার নিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিদ্রোহী শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করল। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সাসপেন্ড’ করার কথাও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক বিদ্রোহ।
সোমবার নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়ক, কাউন্সিলর ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের এক বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, অসীম বসু, জুঁই বিশ্বাস, তারক সিংহ-সহ একাধিক নেতা। কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর-সহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কার্যকরী সমিতি পুনর্গঠন করা বাধ্যতামূলক। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও তা পুনর্গঠন করা হয়নি। সেই কারণেই ‘সাংবিধানিক সঙ্কট’ তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বৈঠকে প্রথমে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, বিপ্লব মিত্র, আখরুজ্জামান আনসারি, সবিনা ইয়াসমিন, রথীন ঘোষ, জাভেদ খান ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। পরে সেই কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা হয়। এরপর কণ্ঠভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। ফিরহাদ, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সবিনা ইয়াসমিনকে সহ-সভাপতি এবং ঋতব্রত, জাভেদ ও সন্দীপন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। দলের আর্থিক হিসাব খতিয়ে দেখতে স্বাধীন নিরীক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অথবা সিদ্ধান্তগুলিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মমতা-ঘনিষ্ঠ শিবির গোটা ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘এটা নিছকই কমেডি শো। তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকিটা সার্কাস ছাড়া কিছু নয়।’’
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের সুর জোরালো হয়েছে। ইতিমধ্যেই দলের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি, লোকসভায় দলের ২০ জন সাংসদ দলত্যাগ করে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএকে সমর্থন করায় তৃণমূলের সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে।