মূলত সাধারণ মানুষের কাছে ডোর টু ডোর প্রচার এবং হাটে বাজারে গ্রামগঞ্জে প্রচারকে মূল হাতিয়ার করেছেন তিনি।

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬-র ভোটে বাঁকুড়ায় সিপিএম কি আবার পুরনো জমি ফিরে পেতে চলেছে? একসময় শক্ত ঘাঁটি থাকা এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রভাব এখনও কতটা মজবুত? বাঁকুড়ার লড়াই কি পুরোপুরি বিজেপি বনাম তৃণমূল হয়ে গিয়েছে, নাকি এখনও সিপিএম ফ্যাক্টর রয়েছে? সিপিএমের পুরনো ভোটব্যাঙ্ক এখনও কতটা অটুট? তরুণ ভোটারদের মধ্যে সিপিএম কতটা গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে পেরেছে? ২০২৬-এ সিপিএম কি গেম চেঞ্জার হতে পারে, নাকি শুধুই ভোট কাটার ভূমিকায় থাকবে? স্থানীয় অসন্তোষ কি সিপিএমের পক্ষে হাওয়া তৈরি করতে পারে? প্রার্থী ফ্যাক্টর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে সিপিএমের ফলাফলে? ২০২৬-এর ভোটে বাঁকুড়ায় সিপিএম কি লড়াইয়ে ফিরছে, নাকি আরও পিছিয়ে পড়ছে?
একসময়ে বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্র ছিল সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একাধিকবার তারা জয় পেয়েছে এবং দীর্ঘদিন সংগঠনগত দাপট বজায় রেখেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শক্তি অনেকটাই ক্ষয়ে যায়। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৬। এই কেন্দ্রে এক চেটিয়া জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল সিপিএমের পার্থ দে। মাঝে ২০০১-র বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জয়লাভ করলেও ২০০৬ -র টার্মে সেই পার্থ দের হাত ধরেই এই কেন্দ্রে ওড়ে লাল আবির। তারপর ধীরে ধীরে সেই দাপট কমতে থাকে।

২০২৬-র ভোটে সিপিএমের তরফে ভরসা রাখা হয়েছে অভয় মুখার্জির উপর। ডিওয়াইএফআই থেকে যুব রাজনীতি শুরু। তারপর বাঁকুড়া জেলায় দাপুটে সিপিএম নেতা। বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী অভয় মুখার্জীর পরিচিতি দলীয় সংগঠন ও স্থানীয় রাজনীতিতে ভালো মতোই রয়েছে। সিপিএমের একজন সংগঠক ও পুরনো কর্মী হিসেবে পরিচিত, যিনি বামফ্রন্টের হয়ে এলাকায় প্রচার ও সংগঠন ধরে রেখেছেন। স্থানীয় স্তরে তাঁর কিছু গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, বিশেষ করে পুরনো বাম সমর্থক ও ক্যাডারদের মধ্যে। গ্রামীণ এলাকায় সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে একটি কোর ভোটব্যাঙ্ক তাঁর পাশে থাকে। যা সিপিএমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। মূলত সাধারণ মানুষের কাছে ডোর টু ডোর প্রচার এবং হাটে বাজারে গ্রামগঞ্জে প্রচারকে মূল হাতিয়ার করেছেন তিনি। তাদের প্রচারের মূল দিক হল ভাতা চাই নাকি চাকরি চাই? যুবকদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন সিপিআইএম নেতা অভয় মুখার্জি।
অভয় মুখার্জির সঙ্গে প্রচারে উপস্থিত এক সময়ের দাপুটে নেতা সহ সিপিআইএমের এক সময়ের জেলা সভাপতি অমিয় পাত্র ।
“মানুষ বুঝে গেছে, তৃণমূল, বিজেপি সব সমান। এবারে সিপিআইএমের উপরই ভরসা রেখেছে সাধারণ মানুষ।” বলছেন, অমিয় পাত্র।
২০২৬-র ভোটে বাঁকুড়ায় সিপিএম প্রার্থী অভয় মুখার্জির নাম ভেবে চিন্তেই ঠিক করেছে দলীয় নেতৃত্ব। যা তৃণমূল- বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গ্যাসের দামবৃদ্ধি থেকে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। নেই চাকরি। এই ইস্যুগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বা বিজেপির বিরুদ্ধে স্থানীয় অসন্তোষ বেড়েছে। আর ঠিক এই জায়গাই হয়ে উঠেছে সিপিএমের কাছে বড় প্লাস পয়েন্ট। এই জায়গা থেকেই ভোট বাড়াতে পারে সিপিএম। আবার ফিরতে পারে বাঁকুড়ায় সিপিএমের একচেটিয়া দাপট।