দিল্লিতে সিজেপি-কেন্দ্র বৈঠক

ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, ক্ষতিপূরণে সম্মতি। তবু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিনিধিদল। রাজধানীর কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নড্ডা (জেপি নড্ডা), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

সিজেপির তরফে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাংকা, অভিজিৎ দীপকে এবং দীপক বালিয়ানের মতো প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেন। সূত্রের খবর, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরেই আলোচনায় বসতে রাজি হয় সিজেপি। সেই শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

তবে মূল দাবি থেকে একচুলও টলানো যায়নি আন্দোলনকারীরা। সিজেপির প্রতিনিধি অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কিছু আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।”

এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। নিট-সহ বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনশনে ছিলেন। মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন প্রত্যাহার করেন তিনি। পরে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো বার্তায় ওয়াংচুক জানান, প্রথমে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনি লিখিত প্রতিশ্রুতি দাবি করেছিলেন। সেই নথি হাতে পাওয়ার পরই আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ দিকে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন, প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান-সহ একটি খসড়া বিল উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁস লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত আড়াই মাসে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া এবং ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করেছে সরকার।”

যদিও সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও বিরোধী দলগুলি এখনও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সংসদে নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবিতে অনড়। ফলে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও অচিরেই এই বিতর্কের অবসান হচ্ছে, এমন ইঙ্গিত এখনও মিলছে না।