স্বামীর নির্যাতনে অসহায় রেশমা, গ্রেফতার স্বামী

সুন্দরবনে স্বামীর নির্যাতনে অসহায় রেশমা! সাত মাসের গর্ভস্থ কন্যা সন্তানকে মেরে কবরস্থ করায় ধৃত স্বামী।

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা:  উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জে এক গৃহবধূর উপর চরম নির্যাতনের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে। হিঙ্গলগঞ্জ থানার ৭/১০ নং ভেটকিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেশমা খাতুন অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী জামিরুল গাজী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা কয়েক বছর ধরে তাঁর উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

রেশমা জানান, কয়েকবছর আগে মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর এক কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও স্বামী সরকারি চাকরির জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে ৫ লক্ষ টাকা আনার দাবি জানায়। পিতার অক্ষমতার কথা জানালে শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। পরে তাঁর পিতা জমি বিক্রি করে জামিরুলকে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দেন, কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি নির্যাতন।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেশমা আবার গর্ভবতী হন। চার মাস পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বসিরহাট নিয়ে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করান এবং পরদিন তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভস্থ সন্তানকে ওষুধ দিয়ে নষ্ট করেন। অভিযোগ, সেই নবজাতককে বাড়ির ভেতরেই কবর দেওয়া হয়।

রেশমা জানান, থানায় ঘটনার অভিয়োগ জানাতে গেলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মিথ্যা কথা বলাতে বাধ্য করা হয়। এরপর চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে ৯ নম্বর স্যান্ডেলের বিল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আশ্বাস দেয় প্রশাসন।

রেশমার অভিযোগের ভিত্তিতে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযুক্ত জামিরুল গাজীকে গ্রেফতার করেছে। আজ তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় ও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে গ্রামবাসীরা‌।