ভোট ঘোষণা হতেই প্রশাসনিক স্তরে রদবদল

ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে বড় প্রশাসনিক বদল, সরানো হল মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০২৬ এর ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। রবিবার ইতিমধ্যে ভোট ঘোষণা করে ফেলেছে কমিশন। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি ভোট ২৯ এপ্রিল। মোট ২৯৪টি আসনের ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে।

 এই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে। একই সঙ্গে দায়িত্ব থেকে অপসারিত করা হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী সংক্রান্ত কোনও কাজে তাঁরা যুক্ত থাকতে পারবেন না।

নন্দিনী চক্রবর্তীর পরিবর্তে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। অন্যদিকে, নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে তাঁদের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে যায়। এই সময়ে নির্বাচন কমিশনের হাতে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা থাকে। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের আমলা, আধিকারিক কিংবা পুলিশকর্তাদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।

অতীতেও নির্বাচনের আগে বিভিন্ন পুলিশকর্তা ও প্রশাসনিক আধিকারিককে সরানোর নজির রয়েছে। এমনকি কলকাতার পুলিশ কমিশনার বা বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের বদলির ঘটনাও ঘটেছে। স্বরাষ্ট্রসচিব পদে পরিবর্তনের উদাহরণও আছে। তবে মুখ্যসচিব পর্যায়ে এভাবে পরিবর্তনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা দেখা যায়নি বলে প্রশাসনিক মহলের মত।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়েও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে কিছু পদক্ষেপ করেছিলেন তিনি। সেই সময় সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে থাকা রাজীব কুমারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। এতদিন তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অতীতে বিপর্যয় মোকাবিলা, অসামরিক প্রতিরক্ষা এবং সেচ দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।

অন্যদিকে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এতদিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব ছিলেন। ওই দফতরে রাজ্যের নারী-শিশু কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়, রাজ্য পুলিশ আধিকারিক স্তরেও একাধিক বদল ঘটানো হয়েছে। নতুন এডিজি আইনশৃঙ্খলা পদে বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে দেওয়া হল। নতুন এডিজি ও আইজিপি হলেন মুকুন্দ রানাডেকে। ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে সেই জায়গায় আনা হল ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। ডিজি ও আইজিপি (ভারপ্রাপ্ত) পদে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে সেই জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে আইপিএস অফিসার অজয় নন্দকে।