ভোটে ভরাডুবির পর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কড়া বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের।

মাম্পি রায়,সাংবাদিক : বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। সোমবার পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করে দল জানিয়ে দিয়েছে, অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে ওই দুই বিধায়কের প্রাথমিক সদস্যপদ। একই সঙ্গে দলের কোনও পদ, দায়িত্ব বা সাংগঠনিক সুযোগ-সুবিধা তাঁরা আর ভোগ করতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। শুধু তাই নয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁদের একাধিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান দলীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে নেতৃত্বের নজরে আসে। সেই প্রেক্ষিতেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
তবে রাজনৈতিক মহলের নজর অন্য একটি ঘটনায়। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে বিধানসভার বহুল আলোচিত সই জাল-কাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানান, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাই স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যার ভিত্তিতে বিধানসভা সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিষয়টির তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে দুই বিধায়কের নাম প্রকাশ্যে আসার পরই ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত মোড় নেয়। কারণ, সেই বৈঠক শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তৃণমূলের তরফে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেছেন অনেকে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ই-মেল এবং হোয়াটসঅ্যাপ মারফত সংশ্লিষ্ট দুই বিধায়ককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসকেও বিষয়টি লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত বহিষ্কারের বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা সন্দীপন সাহার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ভোটে ভরাডুবির পর সংগঠনের ভিত শক্ত করতে গিয়ে তৃণমূল যে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নয়, এই সিদ্ধান্তে সেই বার্তাই স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।