সরকারি প্রকল্পে ব্যক্তিগত জমিতে তৈরি হচ্ছে রাস্তা। বিডিওর কাছে রাস্তার কাজ স্থগিতের দাবি।
কৌশিক চক্রবর্তী, নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় ব্যক্তিগত জমিতে সরকারি ঢালাই রাস্তার কাজ শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের গলসি ২ নং ব্লকের কুরকুবা গ্রাম পঞ্চায়েতে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, মালিকের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত জমির উপর রাস্তা নির্মাণ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, কুরকুবা মৌজার দাগ নম্বর ১৯২৭-এ সৈয়রা বেগম ও আব্দুল মাবুব মোল্লার নামে প্রায় পাঁচ শতক জমি রয়েছে। সেই জমির মধ্যেই প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া একটি ঢালাই রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, জমির মালিকদের কাছ থেকে কোনওরকম লিখিত বা মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।

জমির মালিক খায়রুজামান মোল্লা ও সহিদুল মোল্লা জানান, “আমাদের অনুমতি ছাড়াই সরকারি প্রকল্পের নামে ব্যক্তিগত জমির উপর ঢালাই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি গলসি ২নং ব্লকের বিডিও মৈয়েত্রী ভৌমিককে লিখিতভাবে জানিয়েছি”।

অভিযোগের পর বিডিও মৈয়েত্রী ভৌমিক জানিয়েছেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে”।
এদিকে রাস্তা নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাস্তা তৈরির অনুমতি সংক্রান্ত কোনও নথি দেখাতে চাননি। পাশাপাশি, স্টক পয়েন্ট থেকে ট্রাক্টরে করে আনা বালির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসীরা।

অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওই রাস্তা তৈরি না হলে এলাকায় অন্তত তিন থেকে চারটি পরিবারকে যাতায়াত করতে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
কুরকুবা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ হেফজুর রহমান বলেন, “আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পের কাজ পাড়ার মানুষজনের দাবিতেই শুরু হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জমির অভিযোগ এসেছে, আমি উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করব”।
সরকারি প্রকল্পের কাজ ঘিরে এভাবে ব্যক্তিগত জমির প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও আলোচনার ঝড়।

বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি ২নং ব্লকের কুরকুবা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুরকুবা মৌজার ১৯২৭ দাগ নম্বরের উপর দিয়ে, আমার পাড়া আমার সমাধান প্রকল্পের একটি রাস্তা তৈরি হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর। জমির মালিক যারা আছেন তারা জানাচ্ছেন, “লিখিত এবং মৌখিক কোনওরকমই অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাহলে পঞ্চায়েত প্রধান রাস্তার যে কন্টাক্ট দিয়েছেন সেই ঠিকাদার কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। কিন্তু কেন? কোন নিয়মে কাজ হচ্ছে? ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আমরা আগেই বলেছিলাম আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পটি হচ্ছে ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের কাট মানি পাইয়ে দেওয়ার একটা রাস্তা বের করে দেওয়া হয়েছে।“