গান্ধী ‘দ্য ট্রুথ’ লেখেননি, লিখেছিলেন ‘মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ’। অর্থাৎ, প্রত্যেকের সত্যের সন্ধান ব্যক্তিগত।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ‘দেশের দেড়শো কোটি মানুষের সত্য কী, তা একটি ছোট গোষ্ঠী ঠিক করে দেবে’—এই অভিযোগ তুলে আরএসএস এবং বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, ভারতের বর্তমান আদর্শগত লড়াই পরিবেশ, রাজনীতি বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নয়। আসল সংঘাত হল, দেশের প্রতিটি মানুষের নিজস্ব সত্য ও পথ বেছে নেওয়ার অধিকার নিয়ে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘হরা ভরা স্বরাজ: এ ট্রিবিউট টু রাজীব গান্ধী’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর ‘স্বরাজ’-এর ধারণার সঙ্গে আরএসএসের দর্শনের তুলনা করেন রাহুল। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষই আলাদা এবং সত্যের দিকে তাঁর নিজস্ব পথ রয়েছে। তাই একজন অন্যের ‘সত্য’ নির্ধারণ করতে পারেন না।
রাহুলের কথায়, ‘‘আমার সমস্যা আরএসএসের সঙ্গে এখানেই। আরএসএস ঠিক করেছে, তারা দেশের দেড়শো কোটি মানুষের সত্য জানে। আমি বলছি, না। দেড়শো কোটি মানুষই নিজেদের সত্য জানতে পারেন।’’ তাঁর যুক্তি, অন্য কারও জীবন, পরিবার, অভিজ্ঞতা বা পরিস্থিতি নিজের মতো না হলে তাঁর সত্যও নিজের পক্ষে জানা সম্ভব নয়।
এই প্রসঙ্গে গান্ধীর আত্মজীবনীর নাম ‘দ্য স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ’-এর কথাও তুলে ধরেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, গান্ধী ‘দ্য ট্রুথ’ লেখেননি, লিখেছিলেন ‘মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ’। অর্থাৎ, প্রত্যেকের সত্যের সন্ধান ব্যক্তিগত।

একই সঙ্গে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলেন কংগ্রেস নেতা। মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, আদিবাসী এবং দলিতদের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মনে হওয়া উচিত—‘‘এই দেশ আমারও। আমি এখানে স্বাধীন ভাবে চলতে পারি, ভালবাসা ও সম্মান পেতে পারি।’’
স্বরাজের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাহুল বলেন, পশ্চিমের ‘ফ্রিডম’-এর সঙ্গে ভারতীয় ‘স্বরাজ’-কে এক করে দেখা ঠিক নয়। স্বরাজের অর্থ নিজের উপর নিজের শাসন। তাঁর উদাহরণ, আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীন হতে পারেন, কিন্তু নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কি না, সেটাই স্বরাজের প্রশ্ন।
রাহুলের মতে, স্বরাজ কাউকে বাইরে থেকে দেওয়া যায় না। এটি প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব পথ এবং নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়।