বারুইপুর-কাণ্ডে অভিযুক্তের এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন সৌগত রায়ের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় বুধবার এই ঘটনাকে ‘আইনের শাসনের পরাজয়’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তাঁর প্রশ্ন, অভিযুক্তকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি না করে কেন পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল?
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌগত বলেন, ‘‘এই এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘটনার নিন্দা করছি। মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিজিপি বারুইপুর সফরের এক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। আইনের শাসন এখানে বলি হয়েছে। কার নির্দেশে পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে না তুলে গুলি করল, তা জানা প্রয়োজন। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।’’
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে যায় পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের দাবি, সেই সময় প্রভাস এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে গুরুতর জখম হয় সে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এনকাউন্টারের পর আরও এক আবেগঘন অধ্যায় সামনে আসে। অভিযুক্তের মা ছেলের দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে মৃত্যুসংবাদ দেওয়ার পর হাসপাতালেও যেতে চাননি তিনি।
প্রভাসের মায়ের কথায়, ‘‘আমার ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার শাস্তি সে পেয়েছে। আমি তার দেহ নেব না, বাড়িতেও আনব না। সে কোনও ভাল কাজ করেনি। আপনারা যা করার করুন, আমার কোনও আপত্তি নেই।’’
মায়ের এই প্রতিক্রিয়া এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিজের সন্তানের মৃত্যুতেও তিনি অপরাধের দায় অস্বীকার করেননি। বরং প্রকাশ্যে বলেছেন, ভয়াবহ অপরাধের উপযুক্ত শাস্তিই হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে গত শনিবার নিখোঁজ হয়েছিল ১২ বছরের এক কিশোরী। পরে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভ শুরু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রভাস মণ্ডল-সহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। সেই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাসের এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘিরে এখন নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। একদিকে পুলিশের দাবি, এটি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানোর ঘটনা; অন্যদিকে বিরোধী মহল এবং শাসকদলেরই একাংশের প্রশ্ন, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই অভিযুক্তের মৃত্যু কি আইনের শাসনের পরিপন্থী নয়?