যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতের আবহে তেলের বাজারে সংকট। এই আবহে ভারতের জন্য নতুন রাস্তা খুলে গেল !

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : আন্তর্জাতিক তেল বাজারে নতুন মোড়। রাশিয়া থেকে চিনের উদ্দেশে রওনা দেওয়া একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার হঠাৎই পথ পরিবর্তন করে ভারতের দিকে ধেয়ে আসছে। এই ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরবরাহ-সংকটই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।
জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, ‘অ্যাকোয়া টাইটান’ নামে একটি আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার, যা মূলত চিনের রিজাও বন্দরে যাওয়ার কথা ছিল, সেটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলসীমায় হঠাৎই ইউ-টার্ন নেয়। বর্তমানে জাহাজটি ভারতের নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরের দিকে এগোচ্ছে এবং ২১ মার্চ সেখানে পৌঁছনোর কথা। ট্যাঙ্কারটি জানুয়ারির শেষ দিকে বাল্টিক সাগর উপকূল থেকে রাশিয়ার ইউরালস ক্রুড তেল বোঝাই করেছিল।
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক মার্কিন নীতিগত অবস্থান। জানা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। এর পরেই ভারতীয় রিফাইনারিগুলি বিপুল পরিমাণে—প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল—রুশ তেল কিনে নেয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাতের জেরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে নয়াদিল্লি।

শুধু একটি ট্যাঙ্কার নয়, অন্তত সাতটি রুশ তেলবাহী জাহাজ মাঝপথে গন্তব্য বদলে চিন থেকে ভারতের দিকে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে শক্তি-বিশ্লেষণ সংস্থা Vortexa. বর্তমানে ভারতের প্রায় সব বড় তেল শোধনাগারই রুশ তেল কেনার দৌড়ে নেমেছে।
অন্যদিকে, ‘জৌজৌ এন’ নামে একটি সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কার, যা কাজাখস্তানের সিপিসি ব্লেন্ড তেল বহন করছে, সেটিও একই পথে হাঁটছে। রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে চিনের রিজাওয়ের দিকে এগোলেও, মার্চের গোড়াতেই সেটি ঘুরে ভারতের সিক্কা বন্দরের দিকে রওনা দেয়। এর সম্ভাব্য আগমনের তারিখ ২৫ মার্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলি পুনরায় রুশ তেল আমদানি শুরু করায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতদিন চিনই ছিল রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা। এখন নতুন ক্রেতাদের পেলে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রবল।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি কূটনীতির টানাপোড়েনে সমুদ্রপথেই যেন বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ।