কেমন আছেন বায়রন বিশ্বাস ?

উন্নত চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ থেকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হল সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসকে। রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বায়রনের দাদা মিল্টন বিশ্বাস। যদিও চিকিৎসার গোপনীয়তার কথা বলে দিল্লির কোন হাসপাতালে বায়রনকে ভর্তি করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে সূত্রের খবর, দিল্লি এইমসেই চিকিৎসাধীন সাগরদিঘির বিধায়ক।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

শনিবার দুপুরে নিজের ঘরে থাকাকালীন আচমকাই আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা বায়রনের ঘর থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরোতে দেখে ছুটে আসেন। পরে তাঁকে প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে ধুলিয়ানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

পরিবার সূত্রে খবর, ধুলিয়ানের হাসপাতালের আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন বায়রনের নতুন কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তাঁর দাদা মিল্টন জানিয়েছেন, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় বায়রনের দু’পায়ে হাঁটুর নীচে ক্ষত তৈরি হয়েছে। বাঁ হাতেও কনুইয়ের নীচে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ক্ষত রয়েছে।

মিল্টনের দাবি, ‘‘সুগার ফল করে যাওয়ায় শনিবার বায়রন নিজের ঘরে শুয়ে ছিল। সেই সময় হঠাৎ এসি মেশিন ফেটে গিয়ে ঘরে আগুন লাগে।’’ সোমবার তিনি জানান, বায়রনের ডায়াবেটিস ছাড়াও আরও একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সেই কারণেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রথমে কলকাতায় আনা হয়। পরে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর কথায়, দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং বায়রন চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।

তবে বায়রনের অসুস্থতার মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালে তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার মৃত্যুর পর সাগরদিঘিতে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন বায়রন। পরে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের টিকিটে সাগরদিঘি থেকে জয়ী হন। কিন্তু ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখান তিনি। এখন দিল্লিতে তাঁর চিকিৎসা ঘিরে উদ্বেগে পরিবার ও রাজনৈতিক মহল।