মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন ট্রাম্প !

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির শীর্ষ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নাকি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন ডোলান্ড ট্রাম্প। ইরানকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির শীর্ষ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের পোস্টগুলোকে ‘বিপজ্জনক এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মতো প্রলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এমননিতেই কখনও ইরানকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আবার অন্যদিকে সেনা পাঠানো,ইজরায়েলকে যুদ্ধের উস্কানি সহ একাধিক কর্মকাণ্ড প্রশ্ন তুলেছিল ট্রাম্পের মনস্ত্বত্ত্ব নিয়ে।এবারও কদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হুমকি ,অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির কথা বলছেন ট্রাম্প। যা ট্রাম্পের মানসিকভাবে ভারসাম্যহীনতার তত্ত্বকে আরও জোরালো করছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

তেহরান যদি ট্রাম্পের দেওয়া টাইমলাইনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের ওপর চরম বিপর্যয় নামিয়ে আনার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর প্রশংসাও করেছেন।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ট্রাম্প একদিকে চরম বিপর্যয়ের হুমকির কথা বললেও অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি দেশ ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে।

আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ইরানের অনেক ভেতরে ঢুকে ঝুঁকিপূর্ণ এক অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ মার্কিন বিমানসেনাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইরানও ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। নৌপথে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার এক পোস্টে ট্রাম্প অশালীন ভাষায় ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হুমকি দেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের জন্য মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে এবং ব্রিজ ডে—সব একসঙ্গে।’ এখানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ ও ‘ব্রিজ ডে’ বলে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন পরিকাঠামোর ওপর কার্যত হামলার হুমকি দেন। এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘সেখানে এমন কিছু হবে না! …হরমুজ প্রণালী খুলে দিন…, না হলে আপনাদের নরকের ভেতর বসবাস করতে হবে, শুধু দেখুন!
ট্রাম্পের হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। তিনি ট্রাম্পকে প্রতিহিংসা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দ্বারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আমেরিকা ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ তৈরি করতে পারে।জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারীরা দুই ধাপের একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। প্রথম ধাপ হবে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি; দ্বিতীয় ধাপ হবে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তি।এদিকে ওয়াশিংটনের বন্ধু ইজরায়েলও ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। গত শনিবার দেশটি ইরানের একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। তেহরানের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি করতে ইজরায়েল আগামী সপ্তাহে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ নিয়ে আমেরিকার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা।

এদিকে ট্রাম্পের দ্বিমুখী কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঝড় তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রে অন্দরেও।ইরানকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির শীর্ষ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টগুলোকে ‘বিপজ্জনক এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মতো প্রলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।সোশ্য়াল মিডিয়ায় এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান,ইরানে যুদ্ধ শুরু করার এক মাস পর আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এ ধরনের বিবৃতি আসছে!’মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কংগ্রেসকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করুন।’

এখন দেখার ঘরোয়া চাপে শান্তি প্রস্তাব বা যুদ্ধে উস্কানির পথে হাঁটেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নাকি যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থান ফের প্রশ্নের মুখে ফেলে মানসিক ভারসাম্যকে।