অসুস্থতা কাটিয়ে পর্দায় ফিরতে চেয়েছিলেন সতীশ!

কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছিলেন সতীশ। ক্যামেরার সামনে ফের দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও করছিলেন। কিন্তু ইচ্ছেটা অপূর্ণ রয়ে গেল।

রিয়া হালদার, সাংবাদিক: স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন। স্বপ্ন দেখতে দেখতেই চলে গেলেন তারাদের দেশে। বাকি রয়ে গেল আরও বেশকিছু নতুন স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন পূরণ করা। প্রয়াত অভিনেতা সতীশ শাহের কথা বলছি। বেশ কয়েকদিন ধরে ভোগান্তির পর, অবশেষে শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা সতীশ শাহ। অভিনয় জগতে কত না অবদান রেখে গেলেন তিনি। তবে আজ আপনাদেরকে জানাবো তাঁর কোন ইচ্ছে অপূর্ণ রয়ে গেল।

ওই যে শুরুতেই আপনাদেরকে বললাম সতীশ জি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন। শারীরিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করেও স্বপ্ন দেখে চলেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন অনেক দিন ধরেই। তারপর হঠাৎ শনিবার দুপুর দুটো-আড়াইটে নাগাদ মধ্যাহ্নভোজের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এক গ্রাস খাবার মুখে তোলার পরেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু আধ ঘণ্টা লেগে যায় অ্যাম্বুল্যান্স আসতে। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যেতেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এগুলি জানা যায় সতীশ জির আপ্তসহায়ক সূত্রে। 

বহু ছবি ও ধারাবাহিকে কাজ করেছিলেন তিনি। ইচ্ছে ছিল আরও বেশ কিছু কাজ করবেন। বিশেষ প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। একটি ছবিতে দেখা সমাজমাধ্যমে আপনারা দেখতে পেয়েছেন নিশ্চই। যেখানে দেখা যাচ্ছে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ছবি তুলছেন অভিনেতা সতীশ শাহ। পরনে কালো প্যান্ট এবং হলুদ রঙের একটা টি-শার্ট। মাথায় ধূসর  চুল আর তাঁর গোঁফ। এমন বেশেই নাকি অভিনয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। সত্যিই  ছবিটি একটু ভালো করে দেখলে আপনিও বুঝতে পারবেন সতীশের মুখেই ফুটে উঠছে সেই অদম্য ইচ্ছেশক্তি।

ছবিটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন অভিনেতা রাজেশ কুমার। সঙ্গে তিনি লেখেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছিলেন সতীশ। ক্যামেরার সামনে ফের দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও করছিলেন। চুল দাড়ি পেকে গেলেও কাঁচাপাকা চুল নিয়েই ফের অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছে প্রকাশ করেন সতীশ জি। এবং এই নিয়ে কথাও হয়েছিল আগেই। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’ ধারাবাহিকে সতীশের পুত্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজেশ। তাই সতীশকে বাবা সম্বোধন করে তিনি লেখেন, “বাবা, তুমি মিথ্যেবাদী। তুমি বলেছিলে, তুমি ফিরে আসবে। কখনওই ভাবিনি, তুমি আমাদের পিছনে ফেলে এই ভাবে চলে যাবে। তোমায় খুব মনে পড়ছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তোমার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা পিছিয়েছিলাম। সব সময় তোমার মতো হাসার চেষ্টা করব।” এমনটাই লেখেন অভিনেতা রাজেশ কুমার।

জানেন, মৃত্যুর দু’ঘণ্টা আগেও নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সতীশ। কী বলেছিলেন? বলেছিলেন ‘আমি একদম সুস্থ’। যতই তাঁর শরীরে অসুস্থতা থাকুক না কেন। নিজেকে সুস্থ সবল মনে করতেই পছন্দ করতেন অভিনেতা। মৃত্যুর দু’ঘণ্টা আগেও রত্ন পাঠকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলেন তিনি। রত্না পাঠক হলেন পর্দার স্ত্রী। এগুলি জানান, ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’ ধারাবাহিকের স্রষ্টা জেডি মাজেথিয়া। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, এই ঘটনা। কারণ, শুক্রবার সতীশের সঙ্গে দেখা হতে হতেও হয়নি জেডি-র। প্রয়াত অভিনেতার বাড়ির কাছেই তিনি ছিলেন। শনিবার সকাল ১১টায় অতীশ কাপাডিয়ার সঙ্গে ওর অনেকক্ষণ কথা হয়। তার পরে দুপুর ১টার সময়ে রত্নাজির সঙ্গে কথা বলেন।” আর তারপরেই এই কাণ্ড।

সতীশ ক্লান্ত বোধ করছিলেন। কিন্তু ফোনে জেডি ও তাঁর পরিবারের সকলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছিলেন। সতীশ দরাজ কণ্ঠে বলেছিলেন, “আমার গলা শুনে কী মনে হচ্ছে? আমি একদম সুস্থ আছি।” জেডিকে অন্য এক দিন আসতে বলেছিলেন সতীশ। কিন্তু তার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’-এর অভিনেতা। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবন সতীশের। তিনি পরিচিতি পান ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ ছবির মাধ্যমে। তাঁর অভিনীত চরিত্র এখনও দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। সুরজ বরজাত্যা থেকে ফারহা খান, রাকেশ রোশন— বলিউডের প্রায় সব তাবড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সলমন খানের প্রথম ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র সময় থেকে শুরু করে ‘হম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘হম সাথ সাথ হ্যায়’— একাধিক ছবিতে অবদান রেখে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।