ইরানি ড্রোন টার্গেটে সৌদির বৃহত্তম তেল শোধনাগার !

সৌদি আরামকো : রাস তানুরা শোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা। ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারকে টার্গেট করে হামলা ইরানের। বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক হিসেবে পরিচিত রাস তানুরা শোধনাগার। সৌদির তেল শোধনাগারগুলির হৃদযন্ত্র হিসেবেও পরিচিত। সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে এটি একটি ড্রোন হামলা। তবে এ বার হামলার জেরে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

রাস তানুরা হল রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা সৌদি আরামকোর (Saudi Aramco) বৃহত্তম দেশীয় শোধনাগার। উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এই কমপ্লেক্স সৌদি আরবের জ্বালানি রফতানির মেরুদণ্ড বলে পরিচিত। সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, “শোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনও ক্ষতি হয়নি।”

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন ‘শাহেদ’-এর আঘাতে রাস তানুরার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল আরামকো। সেই সময় তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রফতানি স্থগিত করা হয়। যদিও দেশীয় সরবরাহে কোনও প্রভাব পড়েনি। সংস্থা জানিয়েছে, প্রোপেন ও বিউটেন রফতানি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। রান্নার গ্যাসের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসই হল প্রোপেন ও বিউটেন। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইজ়রায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকেই ইরান একাধিক দেশকে নিশানা করতে শুরু করেছে। যেসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গড়তে সাহায্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানা হচ্ছে। সেই আবহেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার চালিয়েছে ইরান।

ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকেও টার্গেট করেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়েই যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আরামকো কিছু রফতানি লোহিত সাগর হয়ে ঘুরপথে পাঠানোর চেষ্টা করছে, যাতে হরমুজ এড়িয়ে যাওয়া যায়।

ওমানেও জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি সংবাদ সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, দুকম বন্দরে একাধিক ড্রোন হামলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও একটি তেল সংরক্ষণ এলাকা আঘাতের মুখে পড়ে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় থাকা ওমানও এই ড্রোন হামলা থেকে রেহাই পায়নি।

অন্যদিকে, ওপেক গোষ্ঠীর সদস্য এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরাক রফতানি পথের অভাব ও সংরক্ষণ সীমাবদ্ধতার কারণে দৈনিক প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়ে ফেলেছে। যা তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক।

এই অস্থিরতার জেরে সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১.১১ ডলার বেড়ে ব্যারেলপিছু ৮২.৫৩ ডলারে পৌঁছেছে। যা জানুয়ারি ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। যেসব দেশ জ্বালানি আমদানি করে, তারাও বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন সরবরাহের সন্ধান করছে। কিছু চিনা শোধনাগার আগেভাগেই রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা নিচ্ছে বা উৎপাদন কমাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় জ্বালানি পরিকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়বে মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির উপর।