গঙ্গাসাগর মেলার আগে সাগরদ্বীপে শুরু দ্বিতীয় বৃহত্তম নাগ মেলা

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা:দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎসব গঙ্গাসাগর মেলার ঢের আগেই সাগরদ্বীপ এখন উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা। ঐতিহ্যবাহী ‘নাগ মেলা’র মাধ্যমে শুরু হলো গঙ্গাসাগর উৎসবের প্রস্তুতি পর্ব। গত মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, সাগরদ্বীপের পুরুষোত্তমপুরের নাগ সরোবর ময়দানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। শ্রী শ্রী নাগরাজ বাসুকি দেব, মনসা মাতা এবং অন্যান্য দেবদেবীর পূজা-অর্চনাকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। ​এই বছরের ‘নাগ মেলা’ উদ্বোধন করেছেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেলার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। মন্ত্রী ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, সাগর এসডিপিও সুমন কান্তি ঘোষ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিলা বিবি-সহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। ধোবলাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পুরুষোত্তমপুর এলাকায় কয়েকদিন ধরে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলবে এই নাগরাজ বাসুকি দেব এবং অন্যান্য দেবদেবীর পূজা ও মেলা।

​দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহনকারী এই মেলা প্রতি বছরই গঙ্গাসাগর মেলার প্রায় এক মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়। এটি সাগরদ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। তবে এই মেলার আকর্ষণ শুধু দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দ্বীপের বাইরের বহু দর্শনার্থী এবং পুণ্যার্থীও এই সময় নাগ সরোবর দর্শনে আসেন।

​অনেকের কাছেই এই মেলা এখন ‘মিনি গঙ্গাসাগর মেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। গঙ্গাসাগরে পূর্ণস্নানের উদ্দেশ্যে আগত বহু পুণ্যার্থী মূল মেলার ভিড় এড়িয়ে এই সময় এসে নাগ সরোবর দর্শন ও পূণ্য অর্জনের সুযোগ পান। এটি মূল মেলার ঠিক আগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এক প্রকার প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে কাজ করে, যা উৎসবের আবহকে আরও জমিয়ে তোলে। ​রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর গঙ্গাসাগর–বকখালি উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে নাগ সরোবর এলাকাটিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তীর্থযাত্রী এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে, যা এই মেলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মেলার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্ষদ এবং স্থানীয় প্রশাসন সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। ​নাগ মেলা শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর পাশাপাশি চলে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলার দিনগুলিতে লোকনৃত্য, লোকসংগীত, যাত্রা পালা, এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার প্রাঙ্গণ জুড়ে বসেছে বিভিন্ন ধরনের পসরা, যেখানে স্থানীয় হস্তশিল্প, গ্রামীণ সামগ্রী এবং মুখরোচক খাবারের স্টল নজর কাড়ছে।

​এই ‘নাগ মেলা’ গঙ্গাসাগর মেলার আগে সাগরদ্বীপের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বাতাবরণকে উষ্ণ করে তুলছে। উৎসবের এই আবহ আগামীতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বৃহত্তর গঙ্গাসাগর মেলার জন্য ভূমি তৈরি করছে।