মমতাকে নজরবন্দির অভিযোগ!

বারুইপুরে ধর্ষণ-খুণকাণ্ডের প্রতিবাদে আমি একাই যাব বলেছিলাম কিন্তু আমাকে নজরবন্দি করা হয়েছে’, বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য সফরের আগে কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

মুখ খুলেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানিয়ে দিলেন, ‘প্রায় এক হাজার পুলিশের জমায়েত হয়েছে। আমাদের নজরবন্দি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় অনেক মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছে। আজকে বারুইপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, এক মারাত্মক রূপ নিয়েছে। কারণ, মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। আমি জীবনে কোনওদিন দাঙ্গা হাঙ্গামা করার পক্ষপাতী নই। আমি বলেছিলাম, একাই যাব। পরিবারের সঙ্গে দেখা করব। ওদের কথা একটু শুনব’।

বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে অতিরিক্ত পুলিশ, এসডিপিও, বারুইপুর থানার আইসি-সহ ৬ সদস্যের সিট গড়েছে নবান্ন। নাবালিকাকে খুন-সহ তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজেপির মণ্ডল সম্পাদক শান্তনু মণ্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বারুইপুর থানার পুলিশ। শান্তনু অভিযুক্তদের পালাতে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে।

কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন প্রশ্ন তোলেন, ‘‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কি গৃহবন্দি করার চেষ্টা হচ্ছে?’’ তাঁর অভিযোগ, কোনও কারণ ছাড়াই বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘সুপার এমার্জেন্সি’-র সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দিদিকে এ ভাবে আটকে রাখা যাবে না। এমন নৃশংস ঘটনার পরে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন।’’

তৃণমূল নেতা মদন মিত্রও একই সুরে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বাড়িতে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। কিন্তু পুলিশি কড়াকড়ি দিয়ে মানুষের প্রতিবাদ থামানো যাবে না। তাঁর কথায়, আরজি কর-কাণ্ডে যেমন বিচারের দাবি উঠেছিল, তেমনই বারুইপুরের ঘটনাতেও দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার হওয়া উচিত।

এ দিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, নারী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার দাবি করলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, কেন এই ঘটনায় বিরোধী শিবিরের প্রতিবাদ বা জবাবদিহির দাবি শোনা যাচ্ছে না।

বারুইপুর-কাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত যতই তীব্র হোক, তদন্তের গতি এবং নির্যাতিতার পরিবারের জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদও ক্রমশ চড়ছে।