ভোটের মুখে প্রতীক-উর রহমানের দলত্যাগ, রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে উষ্মাপ্রকাশ । সত্যি কি দলের অন্দরে রক্তক্ষরণ চলছে ? প্রতীক-উর রহমান যে যে অভিযোগ তুলেছেন কতটা সত্যি ?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : প্রতীক-উর রহমান বিস্ফোরক হয়ে দল ছাড়তেই যেন সিপিএমের অন্দরে কোন্দল শুরু। অনেকেই বলছেন সিপিএমের অন্দরে মুষলপর্ব চলছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিমকে নিয়ে নাকি দলের অনেক নেতারাই ক্ষুব্ধ। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই দলের অন্দরে সেলিমকে নিয়ে আলোচনা শুরু। দলের ভিতরে স্বজনপোষণ চলছে বলে দাবি করে প্রতিকূর রহমান দল ছেড়ে এখন তৃণমূল নেতা। তবে কি সত্যিই সিপিএমের অন্দরে মুষলপর্ব শুরু হয়েছে।
তিন দশক আগে জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রীত্বে যেতে না দেওয়া। পরমাণু চুক্তির বিরোধিতায় ২০০৮ সালে ইউপিএ-১ সরকার থেকে সমর্থন সরিয়ে নেওয়া। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা। ২০২১ সালে আব্বাস সিদ্দিকি থেকে নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। সবকিছু নিয়েই আলোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠক। প্রবল সামলোচিত। তবে এই সমালোচনা ছাপিয়ে গেছে আগের বিতর্ক গুলোকেও। এরইমাঝে প্রতীক-উর রহমানের দলত্যাগ। সেলিমের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে প্রতীক উরের একের পর এক বাক্যবাণ। রাতারাতি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে যেন ভিলেন বানিয়ে দিয়েছে। দলের শূন্যের গেরো কাটানো যেখানে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সেখানে কিনা একের পর এক বিতর্কে জেরবার কাস্তে-হাতুড়ির দল। দলের রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কতটা ভাবিত বিভিন্ন জেলার নিচু তলার বামকর্মীরা। তারাই তো দলের পতাকাবাহক। লাভ ক্ষতির হিসাব না করা এই মানুষগুলোই তো তপ্ত রোদে, কিংবা হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় দলের হয়ে রাস্তায় থাকেন। প্রবল সবুজায়নের সময়েও শক্ত হাতে পতাকা ধরে থাকেন। তারা তো আর প্রতীক উরের মতো দলের ভিতর হাঁপিয়ে ওঠেন না।
শত্রুশিবিরে যোগ দেওয়ায় প্রতীক উর রহমানকে বহিঃষ্কার করেছে দল। পার্টি-বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা এবং শত্রু শিবিরে যোগদানের অপরাধে পার্টির গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে বহিঃষ্কার হয়েছে প্রতীক-উর রহমান । দল যতই শূন্যের গেরোয় ঝুলুক না পার্টিলাইন এখনও স্ট্রং। আর তাই দলের নিচু তলার কর্মীরাও যেন এক সুরে প্রতীক উরের বিরুদ্ধেই সোচ্চার।
বাম শিবিরের নিচুতলার কর্মীরা যতই দলের সিদ্ধান্তে সহমত হোন না কেন, সিপিএম বিরোধী দলের নেতারা সিপিএমের অন্দরে ভাঙনের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন।
তবে যাইহোক না কেন দল যখন শূন্যের গেঁরো কাটাতে মরিয়া চেষ্টা করছে তখন প্রতিকূরের মতো নবপ্রজন্মের সৈনিকের দলত্যাগ বড় ধাক্কা, তা তো বটেই। আর এই ধাক্কা কাটাতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে চলছে প্রস্তুতি। মঙ্গলবার ম্যারাথন বৈঠক হয় বিমান বসু ও নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে। বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতে বাম-আইএসএফ জোটকে একটি বড় ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চলছে।