FCRA ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানা রিজিজুর

FCRA বিল জেপিসি-তে, বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুললেন মন্ত্রী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ (FCRA) সংশোধনী বিল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিরোধী দল, ধর্মীয় সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের একাংশের আপত্তির জেরে ২০২৬-এর সংশোধনী বিলটি ৩১ সদস্যের যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-তে পাঠিয়েছে লোকসভা। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু মঙ্গলবার দাবি করলেন, জেপিসিতে বিস্তারিত আলোচনা হলেই বিল নিয়ে বিরোধীদের ‘অপপ্রচার’ এবং ‘মিথ্যা প্রচার’ প্রকাশ্যে চলে আসবে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজিজুর অভিযোগ, বিরোধীরা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য বিলটিকে সংখ্যালঘু-বিরোধী বলে প্রচার করছে। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত আইনের কোনও ধারাতেই নির্দিষ্ট কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়কে নিশানা করা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘জেপিসিতে পাঠানো অত্যন্ত ভাল সিদ্ধান্ত। এ বার সত্যিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।’’

বিরোধীদের মূল অভিযোগ, সংশোধিত এফসিআরএ-র মাধ্যমে বিদেশি অনুদানের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে সংখ্যালঘুদের পরিচালিত স্কুল, হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের উপর। কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি-সহ বিরোধী দলগুলি বিলটি প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে।

এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে রিজিজু দাবি করেন, ভারতে আসা বিদেশি অনুদানের মাত্র প্রায় ১৬ শতাংশ খ্রিস্টান সংগঠনগুলির কাছে যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যদি কারও প্রতিবাদ করার কথা হয়, তা হলে হিন্দু সংগঠনগুলিরই সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করা উচিত।’’ বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ‘মিথ্যা এবং কুৎসা’ ছড়ানোর অভিযোগও করেন তিনি।

এমনকি মার্কিন আইনপ্রণেতাদেরও বিলের বিধানগুলি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, এফসিআরএ-র কোন ধারায় কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হয়েছে, তা বিরোধীরা দেখাক।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুরুত্বপূর্ণ যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে একটি ‘ডেজিগনেটেড অথরিটি’ গঠনের প্রস্তাব। কোনও এনজিও-র এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন বাতিল হলে, মেয়াদ শেষ হলে বা পুনর্নবীকরণ না হলে বিদেশি অর্থে তৈরি সম্পত্তি ওই কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নিয়ে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

লোকসভায় গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, জেপিসিতে লোকসভা থেকে ২১ জন এবং রাজ্যসভা থেকে ১০ জন সদস্য থাকবেন। ফলে বিলটির প্রতিটি ধারা নিয়ে দলীয় মতের বাইরে বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন জেপিসির রিপোর্ট এবং তার পরবর্তী সংসদীয় পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।