‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তরুণদের ক্ষোভের প্রতিফলন, কেন্দ্র ব্যর্থ বলেই এমন প্রতিবাদ, দাবি SFI-এর

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আসলে দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। রবিবার এমনই দাবি করলেন এসএফআই-য়ের (Students’ Federation of India) সর্বভারতীয় সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা, বেকারত্ব এবং নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা থেকেই এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের জন্ম।
একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার অভিযোগও তোলেন এসএফআই নেতা। তাঁর দাবি, দেশের তরুণ সমাজ বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সরকারের উপর ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, আর সিজেপি সেই ক্ষোভেরই প্রতীক।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ময়ূখ বলেন, “ককরোচ জনতা পার্টি দেখিয়ে দিয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম কতটা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সরকার যেভাবে তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবহেলা করছে, এই আন্দোলন তারই প্রতিফলন। সুষ্ঠু ভাবে নিট পরীক্ষা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও সরকারের দায়িত্ব।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকার কার্যত ব্যর্থ। তাঁর কথায়, “তরুণ প্রজন্মকে সঠিক মানের শিক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার এসব কিছুই না করে, লুটেরা, কর্পোরেট এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির পাশে দাঁড়িয়েছে।”
সিজেপি-র অনলাইন জনপ্রিয়তা নিয়ে বিজেপির একাংশ যে বিদেশি ‘প্রভাব খাটানোর’ অভিযোগ তুলেছে, তা-ও উড়িয়ে দিয়েছেন ময়ূখ। তাঁর দাবি, পাকিস্তান বা চিন থেকে এই অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে— এমন অভিযোগ “ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব” ছাড়া কিছু নয়। কেন্দ্রের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, “নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এই সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সরকার বরং খতিয়ে দেখুক কেন দেশের তরুণরা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, “আইনি নির্দেশের” ভিত্তিতেই সেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
অন্য দিকে, রাজীব চন্দ্রশেখর দাবি করেছিলেন, সিজেপি-র অনলাইন প্রচার আসলে সীমান্তপারের “ইনফ্লুয়েন্স অপারেশন”-এর অংশ, যার লক্ষ্য ভারতকে অস্থির করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করা।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সূত্রপাত একটি আদালত-সংক্রান্ত বিতর্ককে ঘিরে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ভুয়ো আইন ডিগ্রি ব্যবহারকারীদের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে “ককরোচ” ও “পরজীবী” বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি ওঠে। পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, মন্তব্য বিকৃত ভাবে ছড়ানো হয়েছে এবং তা শুধুমাত্র ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশেই করা হয়েছিল।
তবে তার আগেই ‘ককরোচ’ শব্দটিকেই প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করে ফেলেন বহু তরুণ নেটিজেন। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সিজেপি। কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার জোগাড় করে ফেলে তারা। বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে আরশোলা পার্টির এই আন্দোলন।