‘‘১৫ বছরে তৃণমূল সরকার কাটমানি ও সিন্ডিকেটের রাজত্ব কায়েম করেছে। দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে গোটা প্রশাসন।’’

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দুর্নীতি, অপশাসন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah). সেই সূত্রেই কলকাতা ঝটিকা সফরে এসে সাংবাদিক বৈঠকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ান তিনি। মঞ্চে তাঁর পাশে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari).
চার্জশিট প্রকাশ করে শাহর অভিযোগ, ‘‘১৫ বছরে তৃণমূল সরকার কাটমানি ও সিন্ডিকেটের রাজত্ব কায়েম করেছে। দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে গোটা প্রশাসন।’’ তাঁর দাবি, এই কারণেই শিল্পক্ষেত্রে অন্ধকার নেমে এসেছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে রাজ্যে।
নারী নিরাপত্তা নিয়েও সরব হন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কে অপরাধী, তা দেখা হবে না। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আমরা তা করে দেখিয়েছি।’’ একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, মহিলাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ বেড়েই চলেছে। রাজ্য সরকার কী করছে?’’ এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ১৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি কেন্দ্রকে দেওয়া হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঙালি হেনস্থা প্রসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অভিযোগ করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেসব অভিযোগ খারিজ করেন শাহ। তাঁর যুক্তি, ‘‘যাঁরা বাংলাদেশ থেকে আসেন, তাঁরাও বাংলা বলেন। কিন্তু প্রকৃত বাঙালিদের চিন্তার কোনও কারণ নেই।’’
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ‘অপমান’ প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। শাহ বলেন, ‘‘আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে কীভাবে অপমান করা যায়?’’
প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে অমিত শাহর দাবি, ‘‘ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন সর্বত্রই বদলি করে। এখানে বেশি হচ্ছে, কারণ আধিকারিকেরা সরকারের হয়ে কাজ করছেন।’’
রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘‘আজকের বাংলা আর কবিগুরুর বাংলা নেই। তৃণমূল শাসনে বাঙালি অস্মিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’’
এ দিনের বক্তব্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকাও আলাদা করে তুলে ধরেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘গোটা রাজ্য ঘুরে বাংলার বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু।’’
সবশেষে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় শাহর কণ্ঠে। তাঁর দাবি, ‘‘এই ভোট ভয়মুক্তির ভোট। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়বে বিজেপি।’’
বিজেপির চার্জশিটের পরই পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সবমিলিয়ে এই চার্জশিট প্রকাশের মাধ্যমে মাধ্যমে ভোটের আগে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়ল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।