ত্রিপুরা সীমান্তে BSF-কে বড় বার্তা শাহর !

“দেশ নিশ্চিন্তে ঘুমোয়, কারণ সীমান্তে জেগে থাকেন BSF জওয়ানরা”

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক : দিনের আলোর মতোই সব স্পষ্ট। বিভিন্নভাবে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন শয়ে-শয়ে বাংলাদেশি নাগরিক। হাকিমপুর বা অন্যান্য সীমান্ত দিয়ে তাঁরাই এখন বাংলাদেশে ফিরতে চান। রোজই বাড়ছে ভিড়। তাঁরা নিজেরাই জানাচ্ছেন, কীভাবে ভারতে ঢুকেছিলেন, এতদিন ভারতের কোথায় ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এত সহজে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরাতে নারাজ। উল্টে ভারতকেই দোষারোপ। তাই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী BGB-র অভিযোগ, গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিকবার মানুষকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সীমান্ত গেট খুলে লোকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়। তবে BGB-র দাবি, তারা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, নিজেদের দেশের লোককে ফিরিয়ে নিতে ঢাকার এই অনীহা কেন। এই অভিযোগের জেরে ফের সামনে এসেছে তথাকথিত ‘পুশ-ইন’ বিতর্ক। বাংলাদেশের বক্তব্য, যদি কোনও ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে তাঁকে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ফেরত পাঠাতে হবে। সরাসরি সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। এদিকে ভারত আগেই জানিয়েছে, দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বহু সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ঢাকার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফলে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যু এখন দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।


ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত
মোট দৈর্ঘ্য: ৪,০৯৬.৭ কিমি
ভারতের ৫টি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত
পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়
ত্রিপুরা, মিজোরাম

সবচেয়ে বেশি সীমান্ত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে।

রাজ্যভিত্তিক সীমান্ত
পশ্চিমবঙ্গ – ২,২১৬.৭ কিমি
ত্রিপুরা – ৮৫৬ কিমি
মেঘালয় – ৪৪৩ কিমি
মিজোরাম – ৩১৮ কিমি
আসাম – ২৬৩ কিমি

অর্থাৎ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের সবচেয়ে বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে হলেও কৌশলগত দিক থেকে ত্রিপুরাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রায় চারদিক থেকেই বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এই রাজ্য। এমন আবহেই ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুই দিনের সফরে শুক্রবার আগরতলায় পৌঁছন অমিত শাহ। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁর সফরের মূল ফোকাস ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা। আগরতলার লংকামুড়া সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে BSF জওয়ানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।

অমিত শাহর বার্তা
“দেশ নিশ্চিন্তে ঘুমোয়
কারণ সীমান্তে জেগে থাকেন BSF জওয়ানরা”

BSF জওয়ানদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার মূল ভরসা সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে শুধু প্রশংসা নয়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সীমান্তে নতুন পরিকল্পনা
স্মার্ট বর্ডার প্রযুক্তি
১১৯ কিমি নতুন কাঁটাতার
নজরদারিতে আধুনিক ব্যবস্থা
স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়

অমিত শাহ জানিয়েছেন, যেখানে BSF মোতায়েন থাকবে, সেখানেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বর্ডার তৈরি করা হবে। ত্রিপুরার আরও ১১৯ কিলোমিটার সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত শুধুমাত্র দুই দেশের ভৌগোলিক বিভাজন নয়, এটি নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কূটনৈতিক সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। তাই সীমান্তে কোনও ছোট ঘটনা বা অভিযোগও দ্রুত দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। আর সেই কারণেই আগামী কয়েকদিনের বৈঠক ও আলোচনার দিকে নজর থাকবে দুই দেশের প্রশাসনের।

আগামী ৮ থেকে ১১ জুন নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে সাম্প্রতিক অভিযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্তে নজরদারি সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। নদী, পাহাড়, জনবসতি এবং দুর্গম এলাকার কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তাই সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে দুই দেশের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারতের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ এবং সীমান্তে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা- সব মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এখন ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী দিনের বৈঠকগুলিতে এই উত্তেজনা কতটা প্রশমিত হয়, সেদিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের।