রাজনীতি নয়, ধর্মকে হাতিয়ার করে মায়াপুরে শাহ

ভোটের আগে রাজনীতি নয়, ‘ভক্ত’ হয়ে মায়াপুরে শাহ — ইসকনে হরেকৃষ্ণ ধ্বনি, রাজনীতি এড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মায়াপুরের আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন চত্বরে এদিন ছিল ভক্তদের ঢল। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতা, তবে চোখে পড়েনি দলীয় পতাকা। বক্তৃতার শুরুতেই শাহ বলেন, “আজ সকালে আমার দেশের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁকে জানিয়েছি, ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২তম জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে মায়াপুরে যাচ্ছি।” তাঁর কথায়, “উনি মন থেকে এবং ভক্তিভরে আপনাদের সকলকে ‘হরে কৃষ্ণ’ বলেছেন।”

শাহ আরও বলেন, “একটু আগে আমাকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হল। কিন্তু আমি এখানে সেই পরিচয়ে আসিনি। আমি এসেছি চৈতন্য মহাপ্রভুর অনন্য ভক্ত হিসেবে।”

ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর গৌড়ীয় মঠের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর অবদান স্মরণ করে শাহ বলেন, চৈতন্য মহাপ্রভুর শুরু করা ভক্তি আন্দোলনকে আধুনিক রূপ দিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন ভক্তিসিদ্ধান্ত প্রভুপাদ এবং ভক্তিবেদান্ত প্রভুপাদ। যুবসমাজের কাছে ভক্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

শাহর কথায়, “ভালো-খারাপ সকলের মধ্যেই থাকে। কিন্তু যখন কেউ নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে শ্রীকৃষ্ণময় হয়ে যায়, তখন সবই শুভ হয়ে ওঠে।” তাঁর মতে, ভক্তি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র মায়াপুর সারা বিশ্বকে শান্তির পথ দেখাচ্ছে। এখান থেকে পাওয়া ইতিবাচক শক্তি নিয়েই তিনি আবার দেশসেবার কাজে ফিরবেন বলেও জানান।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আধুনিকতা ধর্মের শত্রু নয়। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি অটুট থাকলে সব বাধা অতিক্রম করা যায়।” নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “আমি অনেক বড় বড় ধর্মপুরুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমদাবাদের এক সাধু বলেছিলেন, তিনি আমার সেবক। এই ভাবনা মনে থাকলে ঈশ্বর দূরে থাকেন না।”

তিনি উল্লেখ করেন, ভক্তিসিদ্ধান্ত স্বামী জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ ছিলেন না। বৈরাগ্যের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “খারাপ জিনিস দূর করে ভক্তিকে শ্রীকৃষ্ণের চরণে সমর্পণ করাই প্রকৃত বৈরাগ্য।”

ভোটমুখী বাংলায় এসে শাহ সরাসরি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি। তবে বক্তৃতার একাংশে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম উল্লেখ করে উদ্বাস্তু মতুয়াদের প্রসঙ্গ তোলেন। যদিও তা রাজনৈতিক ভাষণে রূপ নেয়নি।

শেষে আবার ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি দিয়ে বক্তৃতা শেষ করেন তিনি। জানালেন, এর আগেও মায়াপুরে আসার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু হয়ে ওঠেনি। “হয়তো মহাপ্রভুর ইচ্ছে ছিল, বিশেষ কোনও দিনে যেন আসি,” মন্তব্য শাহর।

ভোটের আবহে এই সফর কতটা ধর্মীয় আর কতটা প্রতীকী— তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থাকলেও, এদিন মায়াপুরে শাহর পরিচয় ছিল একটাই— ‘ভক্ত’।