রেশন বন্টন দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ রেশন দুর্নীতি মামলায় নতুন করে নজর কেড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ এবং তৃণমূল নেতা বারিক বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহানুর মণ্ডল। বসিরহাট মহকুমার কয়েকজন কৃষকের সাম্প্রতিক অভিযোগ—ধান কেনাবেচার সময় কাটমানি নেওয়া হয়েছে—তদন্তের সূত্রপাত ঘটায়। এই অভিযোগ হাতে পেয়েই রেশন দুর্নীতির বিস্তৃত তদন্তে শাহানুরের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানেই বেশ কিছু নতুন নথি ও তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যাতে ধান কেনাবেচায় অনিয়ম, আর্থিক অনিয়ম ও কমিশন আদায়ের প্রমাণ মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমান মামলার আগে জমা দেওয়া চার্জশিটেও শাহানুর মণ্ডল এবং তাঁর ভাই সাহারাপ মণ্ডলের নাম ছিল। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগকে কেন্দ্রীয় সংস্থা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুই নাম ফের সামনে আসায় রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিতে পারে। এর আগে এই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তাঁর ঘনিষ্ঠ দেগঙ্গার তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান, তাঁর ভাই আলিফ নুর ওরফে মুকুল রহমান, বারিক বিশ্বাস, বাকিবুর রহমান এবং শঙ্কর আঢ্যের মতো একাধিক নেতার নাম। ব্যক্তি ও সংস্থা মিলিয়ে মোট ২৯টি নাম ছিল ইডির চার্জশিটে। তাঁদের কয়েকজনের জামিন বাতিলের আবেদনও হাই কোর্টে জানিয়েছে ইডি।

শুধু রেশন দুর্নীতি নয়, বসিরহাট জুড়ে বেআইনি ‘ম্যাগনেট’ ব্যবসার সঙ্গেও শাহানুর–সাহারাপদের সম্পর্ক রয়েছে বলে স্থানীয় মহলের অভিযোগ। যদিও এ নিয়ে এখনো কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর ইডি গ্রেফতার করে প্রাক্তন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রায় ১৪ মাস কারাবাসের পরে তিনি আদালত থেকে জামিন পান। একই মামলায় পরে জামিনে মুক্ত হন আনিসুর রহমানও। এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই শাহানুর ও সাহারাপের নাম নতুন করে উঠে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যে যখনই কোন নির্বাচন সংঘটিত হয় ঠিক সেই সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং রিডি তারা বারবারই তৎপর হয়ে ওঠেন।। এই ইডি এবং সিবিআই তারা প্রত্যেকেই মূলত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীদের উপর এই নজরদারি চালান বলে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের আরো একবার সক্রিয় হতে দেখা গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে।