প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার ৪২ বছর পূর্তিতে তাঁকে স্মরণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। ইন্দিরার সঙ্গে নিজের একাধিক সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরে শশী জানান, নেত্রীর মৃত্যু ব্যক্তিগতভাবে গভীর আঘাত দিয়েছিল তাঁকে। একই সঙ্গে ইন্দিরার শাসনকালের জরুরি অবস্থা এবং কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বিরোধিতা করলেও, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
শনিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে ইন্দিরাকে স্মরণ করেন থারুর। তিনি জানান, ১৯৭৪ সালে সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি থাকাকালীন প্রথম ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের গোড়ায় একটি সুইস যুব পত্রিকার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর সাক্ষাৎকার নেন তিনি। ১৯৭৭ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও বিদেশনীতি নিয়ে নিজের গবেষণার প্রয়োজনে আরও দু’বার ইন্দিরার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন থারুর।
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শশী থারুর লিখেছেন, ‘‘জরুরি অবস্থা এবং তাঁর শাসনকালের কিছু কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী ছিলাম। কিন্তু ১৯৮৪ সালে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ব্যক্তিগতভাবে আমাকে গভীর আঘাত দিয়েছিল। আমাদের গণতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সেদিন হারিয়ে গিয়েছিল। দেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে ভোটের মাধ্যমে, গুলির মাধ্যমে নয়।’’

ইন্দিরার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেছেন থারুর। তাঁর বক্তব্য, ওই যুদ্ধে নৈতিক অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ইন্দিরা। লক্ষ লক্ষ মানুষকে মুক্তির পথ দেখানোর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সঙ্কটের অবসান ঘটিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে উপমহাদেশের মানচিত্রও বদলে দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৭ এবং ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে নিজের বাসভবনেই দুই দেহরক্ষীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।